ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দিলো সরকার, বাড়ানো হয়েছে করমুক্ত আয়ের সীমা। প্রস্তাবিত বাজেটে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে এটা সাড়ে ৩ লাখ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য দুঃসংবাদ, এই খাতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন তিনি।
অন্যদিকে করযোগ্য আয় নেই, ভাবছেন করজালের বাইরে থাকবেন, তা আর হচ্ছে না, রিটার্ন জমা দিলেই ২ হাজার টাকা দিতে হবে সরকারকে। বিত্তবানদের জন্যও দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে এবারের বাজেট, বাড়ানো হয়েছে সম্পদের ওপর কর, সারচার্জ।
এরই মাঝে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার, বাজেটের উল্ল্যেখযোগ্য দিক সম্পর্কে অনেক তথ্য ইতোমধ্যেই জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে ৫ম বাজেটে আ হ ম মুস্তফা কামাল রাজস্ব আয় ধরেছেন ৫ লাখ কোটি টাকা, আয়-ব্যয়ে ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি যা জিডিপির ৫.২%। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.৫%, বছর শেষে জিডিপি হবে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা, মূল্যস্ফীতি থাকবে ৬% এর মধ্যে।
বাজেট নিয়ে মানুষের আগ্রহের জায়গা মূলত কর ও শুল্ক বিষয়ক প্রস্তাবনা। অর্থবিভাগ থেকে পাওয়া অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ করা হয়েছে। তবে নারী কিংবা ৬৫ বছরের বেশি করদাতাদের এই সীমা ৪ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন করহার ১০% থেকে কমিয়ে ৫% এবং সর্বোচ্চ করহার ৩০ % থেকে কমিয়ে ২৫% করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
করমুক্ত সীমার নীচে থাকলেও সরকারি সেবা নিতে রিটার্ন দাখিল দরকার হয় এমন ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে ভ্রমণ কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ কমাতে একাধিক গাড়ীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিসি বা কিলোওয়াটভিত্তিক পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে।
সারচার্জ আরোপের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সীমা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। নীট সম্পদের মূল্যমান ৪ কোটির বেশি হলে ১০% সারচার্জ এবং নীট সম্পদের মূল্যমানের সীমা ৫০ কোটির বেশি হলে ৩৫% সারচার্জ আরোপ করা হবে।
যাত্রী প্রতি ১ ভরি স্বর্ণ আনতে ২ হাজার টাকার বদলে এখন থেকে ৪ হাজার টাকা শুল্ক দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সুলভ করতে দেশে প্রস্তুত হয় এমন ক্যান্সার নিরাময়ের ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইঞ্জেকশনের আইভি ক্যানুলা উৎপাদনের প্রধানতম কাচামাল সিলিকন টিউব আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ডায়াবেটিক ব্যবস্থাপনার ওষুধ উৎপাদনে বিশেষ কিছু কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তরল নিকোটিন আমদানিতে ১৫০% সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।
ইলেকট্রনিক সিগারেট এবং ভ্যাপারাইজিং ডিভাইসের আমদানিতে ২১২.২০% শুল্ক আরোপরে প্রস্তাব করা হয়েছে। কাজু বাদাম আমদানিতে শুল্ক ১৫.২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৩% করা হচ্ছে। সুগন্ধী চাল আমদানিতে ১৫% মূসক আরোপ করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতে ২৫% শুল্ক এবং ১৫% মূসক আরোপ হচ্ছে। চশমার ফ্রেম আমদানিতে শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫% করা হচ্ছে। বল পয়েন্ট কলমে উৎপাদন পর্যায়ে ০ থেকে মূসক বাড়িয়ে ১৫% করা হচ্ছে। নিন্মস্তরের সিগারেটের বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার ১% বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মধ্যম. উচ্চ এবং অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটের শুল্ক হার ৬৫%ই থাকছে। এতে ৬ হাজার কোটি টাকার বাড়তি কর পাবে সরকার।






