বাংলাদেশ রেলওয়ের চাকরিতে ১৪তম গ্রেড হতে ২০তম গ্রেডে ৪০ ভাগ পোষ্য কোটার বিধান সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মো. রোকনুজ্জামানের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।রেলওয়ের সচিব ও আইন সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী মো. রোকনুজ্জামান নিজেই শুনানি করেন।
উল্লেখ্য যে, রেলওয়ের ক্যাডার বর্হিভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ এর নিয়োগ পদ্ধতি সংক্রান্ত ৩ বিধির উপবিধি ৩ এ বলা হয়েছে যে উপবিধি (১) ও (২) এ যা কিছু থাকুক না কেন সরাসরি নিয়োগযোগ্য ১৪ তম গ্রেড হতে ২০তম গ্রেডের মোট শূন্য পদের শতকরা ৪০ ভাগ পদ যোগ্যতাসম্পন্ন পোষ্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে। এই বিধানটি চ্যালেঞ্জ করেই রিট করেন আইনজীবী।
এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের এক রায়ের প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে কোটার বিষয়বস্তুর ওপর স্থিতাবস্থা দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের মূল অংশ (অপারেটিং পার্ট) প্রকাশিত হয়। আলোচিত এই রায় সম্পর্কে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বিবাদীরা (সরকার) যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে কোটা রিডিউস (হ্রাস), ইনক্রিজ (বাড়ানো), দ্য রেশিও অব দ্য পার্সেন্টেজ (শতকরা হার) পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারে। কোনো পাবলিক পরীক্ষায় যদি কোটা থেকে চাকরিপ্রার্থী না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে প্রার্থীর মাধ্যমে তা পূরণ করতে বিবাদীদের স্বাধীনতা থাকবে। এ রায় সরকারের পরিবর্তন-পরিবর্ধনে কোনো বাধা হবে না।’









