আমাদের চারপাশে এতো অনিশ্চিত, অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বিদ্যমান তা বলে শেষ করা সম্ভব না উল্লেখ করে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আমরা মহান স্বাধীনতার ৫৩তম বছর পার করছি। স্বাধীনতার এতোদিন পরও জাতীয় জীবনে চরম হতাশা বিরাজ করছে, যা উপেক্ষা করার সূযোগ নেই। দেশে সামাজিক অস্থিরতা, অবক্ষয়, নৈতিকতাহীনতা প্রতিনিয়ত হতাশার কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংক বীমা, আইনশৃঙ্খলার মতো সেবা খাত সমূহে সাধারণ মানুষের তেমন কোন সূযোগ বিনা তদবির বা ঘুষ ছাড়া হয়ে উঠে না।
শনিবার ১৬ মার্চ বিকেল সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ঢাকস্ত নেতৃবৃন্দের সভায় এসব কথা বলা হয়। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নির্বহিী সভাপতি অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
আলোচনায় অংশ নেন- সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য, অ্যাড. এস এম এ সবুর, জয়ন্তী রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ, জহিরুল ইসলাম জহির, পারভেজ হাসেম, অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, সালউদ্দিন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের অনেক সদিচ্ছার প্রতিফলন জনগণের কাছে পৌঁছে না। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা বিবেকবান নাগরিকদের হতাশ করছে। শুক্রবার একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বিচার না পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্টাটাস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেচে নিয়েছে।
বিচার হীনতার সংস্কৃতি অনেক পুরানো, এই অসহনীয় অবস্থা থেকে দেশবাসী পরিত্রাণ চায়। আসলে আমরা যাচ্ছি কোথায়, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে মাস্তান, সন্ত্রাসবাদ আর ধর্মান্ধ শক্তির উত্থান চলছে। হানাহানি দখল দারিত্বের অশুভ তৎপরতায় ছাত্র, অভিবাবক ও বিবেকবানরা অসহায়।
মানুষ স্বস্তি চায়, শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। মহান স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল এমন একটি স্থিতিশীল, বৈষম্য মুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার সমাজ বিনির্মাণ হবে, কিন্ত এখনও তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী, নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতিনিয়ত এই সকল নিরীহ মানুষগুলো হেনেস্তার স্বীকার হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে।
অন্যদিকে লুটেরা, পুঁজির মালিকরা সিন্ডিকেট বানিয়ে মানুষের পকেটের টাকা লুটিয়ে নিয়ে বিদেশে পাঁচার করছে। তারা সর্বদা ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে। এরা অপশক্তি, এরা নিদিষ্ট কোন দল করে না, এদের আদর্শ হলো, ব্যাংক, বীমাসহ রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট। এরা যে যখন ক্ষমতায় যাবে সেই দলে ভিড়ে দেশ জাতিকে বিপন্ন করে তুলবে। আমরা এই সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।
গণমাধ্যমে জানলাম দীর্ঘ সময় থেকে বাজার ব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিণে জনগণ দিশেহারা। মানুষ ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায়, সরকার জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে কতিপয় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করেছেন।
মূলত সরকার ঘোষিত মূল্যে কোথাও অতীতে জিনিসপত্র বিক্রি হয় না বলেই জনগণ এবারের ঘোষণাও আস্থায় নিতে পারেনি। আমরা সাধুবাদ জানিয়ে বলতে চাই, নূন্যতম এই দামে বাজারে জিনিসপত্র বিক্রি হবে কি না, তার নিশ্চয়তা কোথায়। বাজার নিয়মিত মনিটরিং কোথায় হচ্ছে, তা দেশবাসী দেখাতে চায়। দেশবাসীকে অসাধু মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আশা করে।







