শীত মৌসুমে রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো থাকলেও দামের হিসাবে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি মিলছে না। এরই মধ্যে নতুন দেশি পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে ডিম ও চালের বাজার। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানকে ঘিরে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
রাজধানীর নিউ মার্কেট, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও চিটাগাং রোড এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ আগের মতোই ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে কেজিপ্রতি দাম ছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, সেখানে বর্তমানে তা ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি জাতের মুরগির দাম উঠেছে কেজিতে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।
তবে তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে ডিমের বাজার। বর্তমানে বাদামি ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় কম। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ সময় প্রতি হালি ডিমের দাম ছিল ১৩২ থেকে ১৪৪ টাকা।
শীত মৌসুমে পর্যাপ্ত সবজি থাকলেও দাম প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি। বাজারে ফুলকপি ২৫ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম রয়েছে কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
ক্রেতারা বলছেন, এবার শীতকালীন সবজিতে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। রামপুরার গৃহিণী শেফালী আক্তার বলেন, ‘দামের কারণে ইচ্ছামতো কেনাকাটা করা যাচ্ছে না।’
ব্যবসায়ীরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের চাপ পড়ছে।
রমজান সামনে রেখে সুগন্ধি চালের দাম বেড়ে কেজিতে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে অন্যান্য চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে থাকলেও সামনে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে নজরদারির অভাবে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।









