এখন আমরা যে অবস্থায় আছি গত ১০ বছর আগেও সেই অবস্থায় ছিলাম না। এক সময় আমাদের দেশের লোকজনশুধু শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যেত। এখন সময় বদলেছে, অনেক সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত আছেন আমাদের প্রবাসীরা। এখন আমরা ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে রেমিট্যান্স আনি ডলারে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, আমরা বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর মতো মানুষ যিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তার পাশে সবসময় আমরা থাকবো।
সেই থাকার চিন্তাটি আমরা করি, কারণ আমরা তরুণ এবং আমাদের কথাতে অনেক কিছু প্রভাব ফেলে। আমাদের উপর অনেকের আস্থা আছে। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন তরুণ প্রজন্ম যাদের অনুসরণ করেন- সেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা।
নিজ নিজ অবস্থানে ভালো কাজ করা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, ট্রাভেল ব্লগার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা তুলে ধরেন তারা। ‘ক্যাম্পেইন এডভোকেসি প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
তরুণ প্রজন্মের আইকনরা জানান, আমরা একটা ভিডিও তৈরি করলে মানুষকে অনেক অনুপ্রেরণা দেয়। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছেন তা কিন্তু আগে ছিল না। আমরা কন্টেন্ট তৈরি করে বিদেশ থেকে টাকা আনছি দেশে। ফ্রিল্যান্সাররা টাকা আনলে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা পাচ্ছে। এই প্রণোদনা হিসেবে কিন্তু সরকার অনেক টাকা দিচ্ছে। যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হুন্ডি বন্ধ হয়ে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘বাপ কা বেটা’ মঞ্চে এসে উপস্থিত দর্শকদের জন্য গান পরিবেশন করেন। এর আগে এই পেজের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সঙ্গীত শিল্পী শুভাশিস ভৌমিক বলেন, তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সম্মান জানানোর এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম আসলে সুযোগ তৈরি করে দেয় মুক্তভাবে কথা বলার জন্য। আমাদের যদি এভাবে অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয় তাহলে আরও অনেক ধরনের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা যাবে।
এই সময় তিনি উদাহরণ দিয়ে মেট্রোরেলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমার বাসা মিরপুর ডিএওএইচএস এবং শ্বশুর বাড়ি ধানমন্ডি। আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে সবসময় বলা হতো ‘তুমি তো গ্রামে থাকো’। দূরত্বের কারণে কেউ আসতে চাইত না। এখন আমরা ১৫-২০ মিনিট লাগে মিরপুর থেকে ধানমন্ডি যেতে। এই ধরনের উন্নয়নের জন্য আমি আসলে গর্ব বোধ করি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিয়ম আর নিনাদ জানান, একটা সময় ছিল যখন ঠিকমতো আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ থাকতো না। এখন আমরা আমাদের কন্টেন্ট এডিট করার সময় সেরকম অভিজ্ঞতা কেউ পাই না। এজন্য আস্থা আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। উন্নয়ন এখন আর দেখানোর প্রয়োজন হয় না। মানুষের সামনেই সব জায়গায় উন্নয়ন। তারপরও আমরা আমাদের ভিডিওতে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। একসময় আমরা বাইরে গিয়ে ভিডিও করলে যেমন লাগতো এখন কিন্তু প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন চারপাশে অনেক সুন্দর সুন্দর দৃশ্য আছে।
এসময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন, যারা আমাদের তরুণদের চিন্তা ভাবনা প্রভাবিত করেন তারা আজকে এখানে একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন। আমরা আপনাদের সবার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সবার কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা আছে। আগামী নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম যেন ভোট দিতে উৎসাহিত হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত তারা যেন গ্রহণ করে, স্মার্ট বাংলাদেশের পক্ষে তারা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে, উন্নয়ন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের পক্ষে তরুণ প্রজন্ম যেন তাদের রায় দেয় এবং সামাজিক মাধ্যমে যেসব প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানো হয়, বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়, ইনফ্লুয়েন্সাররা যদি আমাদের তরুণ সমাজকে এই বিষয়ে সচেতন করেন তাহলে আমাদের গণতন্ত্র নিরাপদ থাকবে, দেশে শান্তি নিশ্চিত করতে পারবো।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই আমরা সব কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা আজকে এখানে। এক সময় আমরা যখন ঢাকা থেকে নোয়াখালী যেতাম, সময় লাগতো ৫-৬ ঘণ্টা। এখন যে যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়েছে, আমরা দিনে দুই-চার বার যাওয়া আসা করতে পারবো। একারণে আমার শেখ হাসিনার প্রতি এই আস্থা।
ট্রাভেল ব্লগার ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের এমন কোন রাস্তা নেই যেখান দিয়ে আমার মোটরসাইকেলের চাকা যায়নি। ইতোমধ্যে সারা দেশে এতো পরিমান কাজ হয়েছে যে বলার বাইরে। আমি সবসময় আমার ব্লগে প্রশংসা করি রাস্তার। রাস্তাঘাটের এতো উন্নয়ন করেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার জন্য আমি তাকে মন থেকে ধন্যবাদ দিতে চাই।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘ডানা ভাই জোস’ (কামরুন নাহার ডানা) জানান, নারী হিসেবে নারীর প্রতি আস্থা থাকা স্বাভাবিক। আইনের ছাত্রী হিসেবে আমি দেখেছি প্রতিটা ক্ষেত্রেই অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমি একা ঘুরতে অনেক পছন্দ করি। এজন্য আমার পরিবার আগে আমাকে নিয়ে অনেক দুঃশ্চিন্তা করলেও এখন তা করে না। বাংলাদেশের অনেক জায়গাই এখন আগের চেয়ে অনেক নিরাপদ হয়ে গিয়েছে নারীদের জন্য। তাই আমার নিজের পরিবর্তনের জন্য হলেও বুঝি কেন শেখ হাসিনায় আস্থা আনা দরকার।
অনুষ্ঠানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর যারা নিজ নিজ অবস্থানে ভালো কাজ করেছেন তাদের সম্মাননা জানানো হয়। এসময় সম্মাননা স্মারক তুলে দেন একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু।
অনুষ্ঠানে ইফেতেখার রাফসান ( রাফসান দ্য ছোট ভাই), আর এস ফাহিম চৌধুরী, জুবায়ের তালুকদার, নুরুন্নবী, সেফাতুল ইসলাম (হ্যাজি ম্যান), ইশরাত জাহিন, বাপ কা বেটা, ডা সুষমা রেজা, খন্দকার ফাহিম, প্রিন্স হাসান, রুখ, খালেদ নূর, রাফি, ইয়াহিয়া আমিন, টুইংক ক্যারল, মেহেদী হাসান, ডানা ভাই জোস, পারী রুখ আল মতিন, নিনাদ অ্যান্ড প্রিয়ম, শিখন রহমান, রনি দ্য চালু চিজ- কে সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সত্য তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।







