গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নতুন করে রকেট হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর পরপরই দেশটির মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সংগঠনটির যোদ্ধারা। প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। পুরোদমে শুরু হয় সংঘর্ষ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১৫শ’র বেশি মানুষ। হামাস আর ইসরায়েলের চলমান সংকটে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেনি বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিলেও রাশিয়া যে ফিলিস্তিনিদেরকেই প্রাধান্য দিচ্ছে তা স্পষ্ট হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের কথায়।
৯ অক্টোবর ল্যাভরভ আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবাউল ঘাইতের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একা একা যুদ্ধ করে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। এটি সমাধানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হল, একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র তৈরি করা যা ইসরায়েলের পাশাপাশি থাকবে।
তিনি বলেন, মস্কো শত শত ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু এবং গাজাকে ইসরায়েল এর প্রতিশোধের লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
অন্যদিকে বন্ধু রাষ্ট্র ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য জাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং এর সাথে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জো বাইডেন টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের জনগণের পাশে আছে।
তিনি বলেন, আমার প্রশাসনের ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি কঠিন এবং অটুট সমর্থন রয়েছে। আমরা ইসরায়েলের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং তাদের আত্মরক্ষা নিশ্চিত করবো।
ইসরায়েল ইস্যুতে পশ্চিমাদের নীতির বিষয়ে রাশিয়া যেখানে ‘গুরুতর প্রশ্নের’ কথা বলছে সেখানে ইসরায়েলের প্রতি ‘অটল সমর্থন’ প্রকাশ পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডে। বিশ্বব্যাপী নানান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মুখোমুখি অবস্থান অনেক পুরনো। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ইসরায়েল-হামাস সংকট।








