তৃতীয় দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। এ উপলক্ষে দিল্লিজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
রোববার (৯ জুন) ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সাথে রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা, ড্রোন এবং উড়ন্ত প্ল্যাটফর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ভবনে তিন স্তরের নিরাপত্তা
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসাবে, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি ভবনের ভিতরে এবং বাইরে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। ভিআইপি মুভমেন্টের বাইরে সারা দিল্লি শহরে পুলিশের কর্মী মোতায়েন করা হবে। পিটিআই জানিয়েছে, অর্থসামরিক বাহিনী এবং দিল্লি আর্মড পুলিশের (ডিএপি) পাঁচটি দলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পুলিশ কর্মীকে অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে মোতায়েন করা হবে।
স্নাইপার ও ড্রোন মোতায়ন
তিন স্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিআইপি রুটে স্নাইপার ও সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন থাকবে। উন্নত নজরদারির জন্য বিভিন্ন স্থানে ড্রোন মোতায়েন করা হবে।
দিল্লি এনসিটিতে নো ফ্লাই জোন
শপথ অনুষ্ঠানের কারণে,প্যারাগ্লাইডার, হ্যাং গ্লাইডার, ইউএভি, ইউএএস, মাইক্রোলাইট এয়ারক্রাফ্টসহ আকাশে উড়ে এমন সকল ফ্লাইয়ার সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার আদেশ ৯ জুন থেকে কার্যকর হয়ে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
দিল্লি পুলিশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় বলেছে, ৯ জুন থেকে সকল প্রকার প্যারা-গ্লাইডার, প্যারা-মোটর, হ্যাং-গ্লাইডার, ইউএভিএস, ইউএএসএস, মাইক্রোলাইট বিমানের মতো প্রচলিত সকল প্ল্যাটফর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিমান, হট এয়ার বেলুন, ছোট বিমান, কোয়াডকপ্টার বা বিমান থেকে প্যারা-জাম্পিং ইত্যাদি দিল্লির এনসিটির চিহ্নিত এলাকায় বন্ধ থাকবে।
নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বেশ কয়েকজন প্রতিবেশি দেশের নেতারা আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। অনেকে শনিবার ভারতে পৌঁছেছেন আবার অনেকেই আগামীকাল রোববার ভারতে পৌঁছাবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ডাঃ মোহাম্মদ মুইজ্জু, সেশেলসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আহমেদ আফিফ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবিন্দ কুমার জগনাথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচন্ড, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
শনিবার ৮ জুন ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১২ টায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছান এবং দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে সেশেলসের ভাইস প্রেসিডেন্টের আহমেদ আফিফ ভারতে পৌঁছান।
রোববার ৯ জুন ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ভারতে পৌঁছাবেন। সকাল সাড়ে ১১টায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, ১১টা ৫৫ মিনিটে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি এবং দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারতে পৌঁছাবেন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য যে হোটেলগুলোতে আমন্ত্রিত অতিথিরা থাকবেন সেসব হোটেলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট নিয়ে ক্ষমতায় বসছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। আর বিরোধী দল হিসেবে থাকছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইন্ডিয়া’।









