এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ১১তম ছবি মেলা উদ্বোধনের চারদিনের মধ্যেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
গত ১৬ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই চার দিনে দেশি-বিদেশি আলোকচিত্রী, শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের সরব উপস্থিতিতে উৎসবটি পরিণত হয়েছে এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হওয়া ছবি মেলার প্রদর্শনী ঘিরে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়। প্রদর্শনী দেখা ছাড়াও শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, আলোচনা ও ভাবনার আদান–প্রদান উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বিশেষ করে তরুণ দর্শক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ছবি মেলা কেবল আলোকচিত্র প্রদর্শনী নয়—বরং এটি এক ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংলাপের ক্ষেত্র।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ছবি মেলাকে আন্দোলন, প্রতিরোধ ও জাগরণের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।
এবারের ছবি মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পুনঃ’—আবার শুরু করা, নতুন করে ভাবা ও ভিন্নভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দর্শন।
এই ভাবনাকে কেন্দ্র করে সাজানো প্রদর্শনীগুলোতে পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে আগত ৫৮ জন শিল্পী তাদের আলোকচিত্র ও ভিজুয়াল কাজ উপস্থাপন করছেন। দর্শকদের মতে, প্রদর্শনীগুলো সময়, সমাজ ও মানুষের জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।

শুধু শিল্পকলা একাডেমিতেই সীমাবদ্ধ নয় ছবি মেলা। ঢাকার পাঁচটি প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে—বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন ও জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায়—একযোগে চলছে প্রদর্শনী।
মোট ৯টি প্রদর্শনী নিয়ে ১৬ দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।









