প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে একটি পদ্মা নদী। এখানে সেতু নির্মাণ করা বরাবরই চ্যালেঞ্জে ছিল। কিন্তু দেশের মানুষের উন্নয়নে বিপুল চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছি।
শুক্রবার ৫ জুলাই পদ্মা সেতু প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপনী উপলক্ষে মাওয়ায় সুধী সমাবেশে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৪টায় মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় পদ্মা সেতু উত্তর প্রান্তে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি যুক্ত হন।
জাপানের সাথে পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন জাপানের কাছে প্রস্তাব করা হলো সেতু নির্মাণ করার জন্য তখন তারা জায়গা পর্যবেক্ষণ করে বললেন এখানে সেতুর কাজ করা সম্ভব না। আরিচা থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু তখন ২০০১ সালে আমি তাদের বলি মাওয়া থেকে করলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার সাথে সংযোগ স্থাপন হবে। তখন এক প্রকার আমার কোথায়ই অনেক কঠিন হলেও এই জায়গায় সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে মাঝে বিএনপি এই সেতু নির্মাণে বাঁধা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে পদ্দাসেতু নির্মাণ শেষ করেছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব জনগণকে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা মনে করতেন তাদের ছাড়া বাংলাদেশ চলবে না, সে পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থারা মুখ ফিরিয়ে নিলেও জনগণের কারণেই এই সেতু বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বপ্ন বদলে দিয়েছে এই স্থাপনা-পদ্মা সেতু শুধু মাত্র একটা সেতুই নয়, বাঙালির আবেগ-ভালোবাসা, সামর্থ আর গর্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পদ্মার বুক চিরে। ২০২২ সালে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর এই সেতু পরিবর্তন করে দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাকে। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করছে পদ্মা সেতু দিয়ে।
এই সেতু শুধু দক্ষিণাঞ্চলই নয় সারা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর হোসেন। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পদ্মাসেতুর থিমসং প্রচার করা হয়। এছাড়া পদ্মাসেতুর ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। সুধী সমাবেশে সেতুমন্ত্রীর ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন, সেতু বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামসহ অনেকে।









