সাদিয়া আফরিন অমিন্তা: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্যাফেটেরিয়া ১ বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বাধ্য হয়েই খেতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের আশেপাশের দোকান থেকে বেশি দামে মানহীন খাবার। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পেট খারাপসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ছে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।
আজ শনিবার (৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে দেখা যায় ক্যাফেটেরিয়ার দরজায় তালা ঝুলছে। এলোমেলো ও অপরিষ্কার অবস্থায় ধুলো জমে আছে ক্যাফেটেরিয়ার চেয়ার-টেবিলগুলোও।
জানা যায়, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ ক্যাফেটেরিয়া চালাতে অপারগতা প্রকাশ করে অব্যহতিপত্র দেন সাবেক ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম কলম। দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর গত ২৭ আগস্ট আবারো চালু হয় ক্যাফেটেরিয়াটি৷ চালু হওয়ার মাস না পেরোতেই আবারো ম্যানেজার পদ থেকে ইস্তফা দেন নতুন ম্যানেজার রাজিব মন্ডল। সেই থেকে এখনো বন্ধ আছে ক্যাফেটেরিয়াটি।
ক্যাফেটেরিয়াটির সাবেক ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম কলম বলেন, ক্যাফেটেরিয়া চালাতে গেলে আমাদের কমপক্ষে ১০ জন কর্মচারী লাগে। কর্মচারীর ছোট-বড় মিলে প্রতিদিন আমার ২৫০০ টাকা বিল আসে। এরপর এখানে আমি বসি, আমার ছেলে বসে, আমার স্ত্রী বসে। তবুও যদি মাস শেষে ২০ হাজারের মতোও যদি লাভ না আসে, তাহলে-তো আমার আর ক্যাফেটেরিয়া চালানো সম্ভব না। এভাবে লসের কথা স্যারদের জানিয়েছি। তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী লামিয়া রিফাত রিয়া বলেন, ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় প্রায়ই বাইরের দোকানগুলো থেকে খাবার খেতে হয়। এসব খাবারের অধিকাংশ অস্বাস্থ্যকর, যাতে পুরোনো তেল ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন এসব বাইরের খাবার খেয়ে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়েছি এবং কয়েকদিন পর্যন্ত মেডিকেলে চিকিৎসাধীনও ছিলাম। আমি চাই আমাদের ক্যাফেটেরিয়া দ্রুতই আবার সচল হোক, যাতে আমাদের আর দূর্ভোগ পোহাতে না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাফেটেরিয়া একসময় আড্ডায় মাতোয়ারা থাকতো। করোনা পরবর্তী সময় থেকে এমনটা দেখা যায় না। ক্যাফেটেরিয়া যে শুধুমাত্র খাবারের জন্য তেমনটা নয় বরং এখানে শিক্ষার্থীরা আড্ডা, গ্রুপ স্ট্যাডিসহ তাদের মানসিক বিকাশ এবং সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। তাই ক্যাফেটেরিয়া পুনরায় চালু হওয়া এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন বলেন, ক্যাফেটেরিয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের বিকল্প যে ব্যবস্থা, শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সেটি এখানেই খোঁজে। কিন্তু খাবারের মানের দিকটি বিবেচনা করে আমরা যে নীতিমালা অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করি তাতে সাড়া পাওয়া যায় না। তবে লোক পাওয়া যাচ্ছে না বলে যে আমরা থেমে যাব এমনটি ভাবার কারণ নেই। কমিটির সদস্যরা বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।
টিএসসিসির পরিচালক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল বলেন, একটি ক্যাফেটেরিয়া-তো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। অনেক প্রচেষ্টার পর আমাদের ক্যাফেটেরিয়া চালু করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আমরা খাবারের মান ও দাম নির্ধারণ করে দেই। কিন্তু ভর্তুকি না থাকায় যারা ক্যাফেটেরিয়া চালাতে আসেন তারা লাভের মুখ না দেখার অজুহাত দিয়ে চলে যান। এখন চালানোর মতো ম্যানেজার না থাকলে তো আমাদের করার কিছু থাকে না। এখন অন্য কোন উপায়ে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা যায় কিনা সেই প্রচেষ্টা চলমান আছে।







