নতুন বছরে বাজেটের আকার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে আসছে সরকার। সরকারের অর্থ বিভাগ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেটের রূপরেখা প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে।
বাজেটের এ রূপরেখা আসছে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বাজেট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল ও বাজেট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় উপস্থাপন করা হবে। বাজেট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের নেতৃত্বে থাকবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, উপস্থাপন করবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
জানা গেছে: বাজেট সংক্রান্ত ওই সভায় পরিকল্পনা, বাণিজ্য, খাদ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন: একটি বাস্তবায়নযোগ্য ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহায়ক বাজেট দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানা হবে এবারের বাজেটে। তবে সবকিছু এখনও চূড়ান্ত নয়, বাজেটের আকারে পরিবর্তন আসতে পারে।
চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বাজেটের বাস্তবায়ণ হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। শেষ তিন মাসে এ বাস্তবায়ন হার ৭০ শতাংশের ওপরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আসছে অর্থবছরে বাজেটের আকার ছোট করে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের নাজুক অবস্থা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়াও বাজেট ছোট করে নিয়ে আসার কারণ।
উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে এভাবে বাজেট কমিয়ে আনার নজির নেই।
এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন: অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংকোচনমূলক বাজেট হওয়াই শ্রেয়। বড় বাজেট দিলেও তা ব্যয়ের সক্ষমতা নেই। প্রতিবছরই বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না।
চলতি অর্থবছর (২০২৪-২৫) অর্থবছরে বাজেট ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। যা পরে সংশোধন করে ৭ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
আসছে অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরে রয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থবছরের ৯ মাস পেরিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা। বাকি ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার।
নতুন অর্থ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা ছিলো ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। যদিও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের মতো সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পূর্বাভাসে আগে থেকে বলা হচ্ছে এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।









