মাতৃমৃত্যু হার কমাতে সরকারের কোনো আলাদা বাজেট বরাদ্দ নেই। অথচ প্রতিবছর বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে শত শত মা মারা যাচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলে এই মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি। মাতৃমৃত্যু হার কমাতে অবশ্যই বেশি করে ইফোর্ট দিতে হবে। নইলে এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর সকালে রাজধানীর বিএমএ ভবনের কনফারেন্স রুমে অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবির) এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে ‘প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ, গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ এবং নবীন প্রসুতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্ব গঠন’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞ বক্তারা এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় দেশের মাতৃস্বাস্থ্য এবং বর্তমান পরিস্থিতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেপার উপস্থাপন করেন গাইন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফারহানা দেওয়ান। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বিসহ অন্যান্য সাংবাদিকৃবন্দ। ওজিএসবির পাসট প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ফেরদৌসী বেগম বিশেষজ্ঞ মতামত দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ফিরোজা বেগম।
সভায় ডিজিএইচএস, ডিজিএফপি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক এবং ওজিএসবি কর্তৃক ফরিদপুরের ৪টি সরকারি হাসপাতালে ও ঢাকার ২টি অলাভজনক বেসরকারী হাসপাতালে ২০২৩-২০২৫ পর্যন্ত পরিচালিত প্রকল্প এবং এর ফলাফল বর্ননা করা হয়। এর মাধ্যমে মাতৃ ও শিশুর সেবা দানে বাধার সৃষ্টি করে এমন বিষয়গুলি নির্নয় ও সেগুলি সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এই প্রকল্পের আওতায় যে বিষয়গুলির উপর আরও কাজ করা হয়েছে সেগুলি হলো- প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ, গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, অপরিণত শিশু প্রসবের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন কর্টিকোস্টেরেয়ড প্রয়োগ এবং রক্তস্বপ্লতার চিকিৎসায় লৌহজাতীয়
ইঞ্জেকশেনের ব্যবহার। অনুষ্ঠানটিতে এ বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠ ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ওজিএসবি কর্তৃক (অধ্যাপক ডাঃ ফেরদৌসী বেগম) স্বল্প মূল্যে সহজে তৈরি করা যায় এমন একটি উদ্ভাদন প্রদর্শন করা হয় যা লক্ষ লক্ষ মায়ের জীবন বাঁচাতে পারে। সহজলভ্য স্বচ্ছ/স্বল্পস্বচ্ছ পলিথিনের ব্যাগের মাধ্যমে কৌশলে ত্রিকোণ আকৃতির দাগাঙ্কিত থলি স্বাভাবিক প্রসবের সময়ে ব্যবহার করে প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ পরিমাপ করে প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরনের রোগ নির্নয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটি নার্স ও মিডওয়াইফরা হাসপাতালে তৈরী করতে পারেন যার মূল্য মাত্র ৫ টাকা; প্রকল্পে এটির সফল ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।









