অনুমোদনহীন বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে বোতলজাত কোমল পানীয় তৈরি এবং নামীদামি ব্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করে শিশু-কিশোরসহ সাধারণ জনগণের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছিল একটি চক্র। বাড়ির মালিক সিরাজের সহায়তায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল তারা।
নামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে শিশু খাদ্য, ভেজাল কোমল পানীয় ড্রিংকো, ফ্রুটো, ম্যাংগো জুস তৈরি ও নকল টেস্টি স্যালাইন তৈরি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শিশু খাদ্য তৈরি কারখানা মালিক মো. আনোয়ার হোসেন, ডিলার শাহ নেওয়াজ খান, বিক্রয়কর্মী মোরশেদুল ইসলাম, উৎপাদনকারী সবুজ মিয়া, উৎপাদনকারী মো. আরিফ এবং নকল টেস্টি স্যালাইন তৈরি কারখানার মালিক হানিফ মিনা।
গতকাল মঙ্গলবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন মোহাম্মদবাগে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান ভেজাল শিশুখাদ্য, কোমল পানীয়সহ তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
আজ বুধবার মিন্টু রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন এই কারখানার মালিক। তিনি ড্রিংকো, ফ্রুটো, ম্যাংগো জুস ২৫-৪০ শতাংশ কমিশনে লোভনীয় অফারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো। আনোয়ার গত ২ বছর ধরে অনুমোদনবিহীন ভেজাল শিশু খাদ্য নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে স্যাকারিন, পানি, আর্টিফিশিয়াল ফ্লেবার, মানহীন ক্যামিকেল দিয়ে অসাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল কোমল পানীয় ড্রিংকো, ফ্রুট, ম্যাংগো জুস তৈরি করছিল।
এছাড়া গ্রেপ্তার হানিফ মান নিয়ন্ত্রনহীন অদক্ষ জনবল দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোনো প্রকার অনুমোদন ও স্বীকৃত কেমিষ্টবিহীন চিনি, গ্লুকোজ, মানহীন ক্যামিকেল দিয়ে ভেজাল টেস্টি স্যালাইন তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল।
ডিবি প্রধান বলেন, ভেজাল পন্য ফরিদপুর, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে। এসব ভেজাল খাদ্য তৈরির কাচাঁমাল ও লোগো রাজধানীর মিডফোর্ড এলাকা থেকে সংগ্রহ করত। গত কয়েকদিনে তীব্র দাবদাহে মানুষের মধ্যে পানীয়র চাহিদা বাড়ায় এ ধরণের ভেজাল কোমল পানীয় তৈরি বেড়ে যায় তাদের। ভেজাল খাদ্য ও নকল স্যালাইন সেবনের পর শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে।









