একতরফা ডামি নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ‘একতরফা ভোট বর্জন করুন’ আহ্বান জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চের গণসংযোগপূর্ব সমাবেশ এ মন্তব্য করেন বক্তারা।
সমাবেশ থেকে ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, দেশ একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সেকথা জানেন, এ জন্যই তিনি দুর্ভিক্ষের কথা বলছেন। দেশে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে তা সামাল দিতে পারবেন না জেনেই প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলছেন জানান বক্তারা । তারা বলেন, এরই মধ্যে লোপাট করা ৯২ হাজার কোটি টাকার গরমিল সামনে এসেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সংবিধানের কথা বলে যারা ভুয়া নির্বাচন ও প্রহসনের নির্বাচন করছেন তারা জনগণের চোখে ধুলা দিতে পারবেন না, কেননা সংবিধানের ১২৩ নং আর্টিকেলের খ-তে এখনো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার পরিস্থিতি আছে। নতুন করে অধিবেশন ডেকে ৯০ দিন পর নির্বাচন দেওয়া সম্ভব। কাজেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না।
নেতৃবৃন্দ এই নির্বাচন স্থগিত করে, তফসিল বাতিল করে এবং সমস্ত আন্দোলনকারী শক্তির সাথে বসে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, একদিকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ যেমনি লড়বে তেমনি সেই রক্ষার ভিত্তি হবে ৩১ দফা। এই ৩১ দফায় রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা সংস্কারের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বাংলাদেশেকে ভয়ঙ্কর সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রহীনতা থেকে উদ্ধার করতে হলে নতুন এই বন্দোবস্তের বিকল্প নাই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এরা (আওয়ামী লীগ) দেশে যা খুশি তাই করছে। নির্বাচন নিয়ে নাটক ও তামাশা চলছে। এখন নির্বাচনী নাটকে কে কে অভিনয় করবে সেটা শেখ হাসিনা একাই ঠিক করেছেন। ডামি প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিদ্রোহী ও নৌকার প্রার্থী এরপর নাটকটা হবে। এরকম খেলা খেলতে যদি এভাবেই একতরফা ভোট সম্পন্ন করেন তবে জনগণ ক্ষমা করবে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আজ হুমকীর সম্মুখীন। মাদারীপুরে নিজেদের প্রার্থীর কর্মীকে কুপিয়ে মেরে ফেলছে। আর শান্তিপূর্ণ বিরোধিতাকারীদের ওপর তারা পরিকল্পিত নাশকতার দায় চাপাচ্ছে।
ইনু মেননের রাজনীতি শেষ, স্বতন্ত্র রাজনীতি বলে কিছু নাই ; তারা নৌকা ছাড়া নির্বাচনও করতে পারছে না। বাংলাদেশের মানুষকে আওয়ামী লীগ ভেড়ার পাল বানাতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করে তার সমস্ত বিজয় নিয়ে এসেছে। কাজেই আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র টিকবে না। জনগণ আন্দোলন করে এমন ব্যবস্থা কারয়ম করবে যাতে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, জনগণ বাজারে ন্যায্যমূল্যে সব জিনিসপত্র কিনতে পারবে। আজকের এই দুঃশাসন থাকবে না জনগণ জনসমুদ্রের মতো গণঅভ্যুত্থান করে এদের পতন ঘটাবে।
রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী।
সমাবেশ পরিচালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সদস্য সাইফুল্লাহ হায়দার। সমাবেশের পর গণসংযোগের উদ্দেশে মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে পল্টন হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণতন্ত্র মঞ্চের বর্তমান সমন্বয়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি-র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।








