যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্প ‘স্টারগেট’ নিয়ে টেসলার সিইও ইলন মাস্কের সঙ্গে তার মতপার্থক্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাস্ক এই প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন, যা ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও গভীর করেছে।
স্টারগেট প্রকল্পটি মূলত ওপেনএআই, সফটব্যাংক, অরাকল, মাইক্রোসফট এবং এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করবে। এই ডেটা সেন্টারগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রকল্পটি “আমেরিকার সম্ভাবনার প্রতি আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।” তিনি দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে ১ লাখেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এর কিছু নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই টেক্সাসে শুরু হয়েছে।
ইলন মাস্ক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ স্টারগেট প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “তাদের কাছে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই।” তিনি আরও দাবি করেছেন, সফটব্যাংকের কাছে প্রকল্পের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারেরও কম অর্থ রয়েছে। মাস্কের এই মন্তব্য প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে।
মাস্কের সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেন, “ইলন এই প্রকল্পে জড়িত একজন ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন। তবে এই প্রকল্পে যারা কাজ করছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। সরকার এতে কোনো অর্থায়ন করছে না, সব অর্থ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই আসছে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “যারা এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে, তারা ধনী এবং আমি বিশ্বাস করি তারা এটা করতে পারবে। তবে ইলনের সমালোচনার পেছনে তার ব্যক্তিগত বিদ্বেষ কাজ করছে।”
ইলন মাস্ক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা ছিল। তবে স্টারগেট প্রকল্প নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।
স্টারগেট প্রকল্পের আওতায় পরবর্তী চার বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাইক্রোসফট একাই ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই প্রকল্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
কিন্তু মাস্কের মতো সমালোচকরা এর অর্থায়ন ও কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিতর্ক প্রকল্পের বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্পের স্টারগেট প্রকল্প প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও, ইলন মাস্কের সমালোচনা এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই বিতর্ক কেবল প্রকল্পের সফলতা নয়, ট্রাম্প ও মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রকল্প কীভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বাস্তবায়িত হয় এবং এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এগিয়ে যায়।









