রামপুরার একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনি কিশোর। শনিবার রাতে সেই বাসা থেকে এই শিল্পীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারের দু’তিন দিন আগে মৃত্যু হলেও প্রাথমিক তদন্তে অস্বাভাবিক কোনো কিছুর হদিস পায়নি পুলিশ।
বিয়ের সময় মনি কিশোর সনাতন থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর অনেক বছর ধরে তিনি একাই থাকতেন। এমনকি গান থেকেও দূরে ছিলেন তিনি। সংগীতের সহকর্মীদের সাথেও বাড়ছিলো দূরত্ব। এদিকে মারা যাওয়ার পর মরদেহ কী করতে হবে, তা বলে গিয়েছিলেন একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে। যিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন।
এদিকে রবিবার থেকে শোনা যাচ্ছে, ময়না তদন্ত শেষে ‘কী ছিলে আমার’ খ্যাত এই শিল্পীর মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে। সাধারণত বেওয়ারিশ লাশের দাফন বা সৎকার করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় সংগীত অঙ্গন থেকে সাধারণ শ্রোতাদর্শক অনুরাগীদের মধ্যে।
মনি কিশোরের ভগ্নিপতি নাট্যশিক্ষক বিপ্লব বালা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে কেন মরদেহ হস্তান্তর হবে? মনি কিশোর, উনার কি পরিবার নেই? এই খবর সত্যি নয়। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল এর হিমাগারে রাখা হয়েছে। দাফন নাকি সৎকার- এ নিয়ে তিনি তার মেয়েকে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সেভাবেই হবে।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে মনি কিশোরের মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের খবরটি সত্যি নয়। এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ছড়িয়েছে। মনি কিশোর বেওয়ারিশ কেউ নন, তিনি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুণী একজন শিল্পী। আমরা শিল্পী সমাজ তার পাশে আছি, দ্রুতই সবাই বসে সব ঠিক করছি। মনির শেষ বিদায়ে আমরা তাকে সম্মান জানাতে চাই।
মিল্টন খন্দকার জানান, মনি কিশোরের পরিবারের বিভিন্নজনের সাথে তাদের কথা হয়েছে। মনি কিশোরের মরদেহ সৎকার হবে নাকি দাফন, এ নিয়ে কী করতে হবে- সবকিছু তার মেয়ের কাছে বলে গেছেন। তার মেয়ের নির্দেশনা মতোই শেষ বিদায় কার্য সম্পন্ন হবে।
তিনি জানান, আমেরিকায় মেয়ের পরীক্ষা চলছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তিনি বাবার শেষ বিদায়ে আসতে পারছেন না। মনি কিশোরের সাবেক স্ত্রীর বড়বোনের সাথে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান মিল্টন খন্দকার। তাদের পক্ষ থেকেও শিল্পী সমাজের পরিকল্পনায় সম্মতি রয়েছে বলে জানান এই সংগীত পরিচালক।
পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মনি কিশোর। ‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাস ‘, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’সহ তার গাওয়া আরো বহু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।









