টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হলেই প্রথমে মাথায় আসে সাদা পোশাক এবং লাল বলের পাঁচ দিনের লড়াই। প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সব বদলালেও একটি বিষয় একই রয়ে গেছে, সেটি হল দলের জার্সি। বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেট মাঝে মধ্যে সকালের বদলে দিবারাত্রি ম্যাচ হয়, যেখানে ম্যাচের বল লালের পরিবর্তে গোলাপি দেখা গেছে। কিন্তু বিশ্বের যে প্রান্তেই যে সময় খেলা হোক, প্রতিপক্ষও দলগুলো খেলে সাদা পোশাকেই। তবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি সবার থেকে কিছুটা আলাদা, সব দলের থেকে উজ্জ্বল সাদা।
টেস্ট ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্র লোকের খেলা, আভিজাত্যের এবং ঐতিহ্য খেলা। সেখানে নিজেদের কিছুটা আলাদা রেখেছে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের ছাড়া বাকি টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর জার্সি হালকা সাদা, যাকে বলা হয় অফ হোয়াইট। কিন্তু ইংলিশদের জার্সি পুরোপুরি উজ্জ্বল সাদা রঙের। কিন্তু কেন?
তার আগে জানতে হবে, কেন সাদা পোশাকে টেস্ট খেলে দলগুলো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, টেস্ট ক্রিকেটে সব দলকে সাদা বা অফ হোয়াইট রঙের জার্সি পরতে হয়। ঐতিহ্যের পাশাপাশি রোদে দীর্ঘ সময় খেলার জন্য তাপ শোষণ কমানো এবং লাল বল স্পষ্টভাবে দেখার সুবিধার্থে সাদা জার্সিতে খেলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দলগুলো নিজেদের দলের জার্সিতে সাদার সাথে অন্য রঙের হালকা ছাপ রাখে। যেমন, অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে কিছুটা হালকা হলুদের আভা দেখা যায়। ভারতের টেস্ট জার্সি সাধারণত কিছুটা অফ-হোয়াইট বা ম্যাট হোয়াইট হয়ে থাকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে হালকা লাল আভা দেখা যায়।
এ জার্সিগুলো মূলত একটি নিট বা বোনা কাপড় ব্যবহার করা হয়। এটি সাধারণত উল, তুলা বা সিন্থেটিক ফাইবারের মিশ্রণে তৈরি করা হয়। এটি বিশেষ বুনন কৌশলের কারণে নরম, আরামদায়ক এবং বেশ স্থিতিস্থাপক বা স্ট্রেচি হয়ে থাকে। এ জার্সির কাপড় টানলে লম্বা হবে এবং ছেড়ে দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
এখন জেনে নেয়া যাক কেনো বাকিদের থেকে আলাদা ইংল্যান্ডের টেস্ট জার্সি? এখানে প্রথমে আসে তাদের ঐতিহ্যের কথা। ইংলিশরা বরাবরই ১৪শ-১৫শ শতাব্দী থেকেই আলাদাভাবে নিজেদের ঐতিহ্য এবং আভিজাত্য ধরে রেখেছে। তারা সর্বত্র নিজেদের উচ্চতা এবং আভিজাত্যের ছাপ দিয়ে এসেছে। টেস্ট ক্রিকেটও তার ব্যাতিক্রম কিছু নয়। ১৮৭৭ সালে শুরু হওয়া টেস্ট ক্রিকেটে ইংলিশরা নিজেদের মেলে ধরে উচ্চশ্রেণির লোকদের কাতারে। সেখানে প্রচলিত সাদা পোশাক এবং এর সম্মান।
বর্তমানে সবার থেকে আলাদা করে ফুটিয়ে তুলতে এবং উজ্জ্বল সাদা করে নিজেদের তুলে ধরার অন্যতম কারণ হল, যেন তাদের পরিপাটি, মার্জিত, রুচিশীল এবং আকর্ষণীয় দেখায়। ইংলিশদের প্রচলিত ভদ্র লোকের খেলাকে তারা এখনও ভদ্রতার সাথে খেলার চেষ্টা করেন। যার কারণে তারা জার্সিতে অন্য কোন রঙের ছাপ রাখে না, এবং নিজদের আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে জার্সি পুরোপুরি সাদা রাখে।
ইংল্যান্ডের পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাস্টোর ইংলিশদের জার্সি নির্মাণ করে। তারা ইংল্যান্ডের জন্য আলাদা রকমের এক কাপড় ব্যবহার করে, যার নাম ব্রিদেবল জ্যাকার্ড উইকিং ফ্যাব্রিক। এটি কটন ক্লাসিক শার্ট নয়, বরং তার তুলনায় অধিক স্পোর্টস ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে। খেলা চলাকালীন ঠান্ডা ও ফোকাস ধরে রাখতে উন্নত প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি করা হয় এ জার্সি। যা দীর্ঘ পাঁচ দিনের টেস্টের জন্য আরামদায়ক এবং শক্তপোক্ত।
স্পোর্টস টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতে উন্নত পর্যায়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এত উজ্জ্বল সাদা রাখা হয়। খেলার পরিবেশে সাদা কাপড় সহজে ময়লা, ঘাম ও ধুলা নিলে ছেয়ে যায়। তাই টেকসই বিশিষ্ট ফ্যাব্রিক বেছে নেওয়া হয়। নরম ব্লিচিং এজেন্ট ব্যবহার করে উজ্জ্বলতা ধরে রাখা হয় যা বিশেষ লন্ড্রি পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে এন্টি-স্টেইন ফিনিশ ট্রিটমেন্ট থাকে যাতে দ্রুত ময়লা না হয়।









