ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। ডুম্বুর জলাধারে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসায় কর্তৃপক্ষ সেখানে স্থাপিত বাঁধের স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে। ফলে পানির ঢল বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভাসিয়ে দিচ্ছে জনপদ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতে টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশটির ত্রিপুরার বাংলাদেশঘেঁষা খোয়াই জেলার প্রশাসন সর্বোচ্চ ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে। এই পরিস্থিতিতে স্লুইস গেট খুলে দেয়ার ফলে গোমতী ও সিপাহীজলা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর ও কৃষি জমি ভেসে গেছে। বিভিন্ন নদ-নদী বেয়ে সেই পানি ছুটে আসছে ভাটির দিকে।
দেশটির পশ্চিম ত্রিপুরাসহ সিপাহিজলা, ধলাই, উত্তর ত্রিপুরা, গোমতী, দক্ষিণ ত্রিপুরা ও উনাকোটি জেলা অংশিকভাবে পানির নিচে চলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে। এই সতর্কতার অর্থ রাস্তাঘাট, নদীনালা ও নিচু এলাকা বিপদগ্রস্ত, বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং ভূমিধস বাড়ছে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন , ভারী বৃষ্টির কারণে গোমতী জেলায় রাজ্যের একমাত্র পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের ডুম্বুর জলাধারে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পানি জমা হয়ে পড়েছে, তাই যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে; এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকায় আগাম ঘোষণা দিয়ে জলাধার কর্তৃপক্ষ স্লুইস গেট খুলে বাড়তি পানি ছেড়ে দিয়েছে। এর ফলে গোমতী ও সিপাহীজলা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর ও কৃষি জমিতে ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ভারী বর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে উজান থেকে বানের পানি ঢুকতে থাকায় ফলে ফেনী জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার উত্তরের তিন উপজেলা ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার রাস্তা-ঘাট ও ঘর-বসতি এখন পানির নিচে। সদর উপজেলা, সোনাগাজীর অনেক গ্রামও প্লাবিত হয়েছে। বানের পানিতে এখন পর্যন্ত একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।









