গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের অধিভুক্ত আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি আবারও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
আজ (২৩ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং আমাদের এটি পেতেই হবে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের নেতৃত্ব দেবেন ল্যান্ড্রি।
এই ঘোষণার পর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ডেনিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ল্যান্ড্রির নিয়োগকে ‘খুবই বিরক্তিকর’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ডেনিশ সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো জরুরি।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং এই দ্বীপের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। তার ভাষায়, একজন বিশেষ দূত নিয়োগে আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেফ ল্যান্ড্রি বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা তার জন্য সম্মানের। এর আগে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেওয়া উচিত।
জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করছেন। এমনকি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি। এতে নেটোর মিত্র দেশ ডেনমার্ক বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।








