শেষ ২০ বছরে ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতারা এমন কিছু চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন, যা একত্রে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম এবং তাদের মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার একটি শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ গড়ে তুলেছে। নিচে ‘দ্য নিউ আরব’-এর বাছাইকৃত ১০টি ফিলিস্তিনি সিনেমার তালিকা দেওয়া হলো, যা দেখা উচিত বলে তারা মনে করেন।
কেননা, এই সিনেমাগুলো ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, প্রতিদিনের জীবন, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে গভীরভাবে সাহায্য করবে।
১. প্যারাডাইস নাউ (২০০৫)
পরিচালক: হানি আবু-আসাদ
আত্মঘাতী মিশনে যাওয়া দুই বন্ধুর শেষ ৪৮ ঘণ্টা নিয়ে একটি আবেগঘন ও তীব্র রাজনৈতিক সিনেমা। এই সিনেমাটি দেখায় কেন কিছু তরুণ এত চরম সিদ্ধান্ত নেয়।
২. দ্য টাইম দ্যাট রিমেইনস (২০০৯)
পরিচালক: এলিয়া সুলেইমান
১৯৪৮ থেকে ২০০৮-২০০৯ পর্যন্ত সময়কে ঘিরে একটি পরিবারের জীবনচিত্র। ব্যক্তিগত ডায়েরি আর চিঠিপত্রের মাধ্যমে ইতিহাসের গভীরে যাওয়া একটি চমৎকার আত্মজীবনী চলচ্চিত্র।
৩. পোমেগ্র্যানেটস এন্ড মেইর (২০০৯)
পরিচালক: নাজওয়া নাজ্জার
স্বামীর গ্রেপ্তারের পর নৃত্যের মাধ্যমে নিজের পরিচয় খোঁজা এক নারীর গল্প। প্রেম, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিশেল।
৪. দ্য আইডল (২০১৫)
পরিচালক: হানি আবু-আসাদ
বাস্তব কাহিনিভিত্তিক – গাজা থেকে উঠে আসা মোহাম্মদ আসসাফের ‘আরব আইডল’ জয় করার কাহিনি।অনুপ্রেরণাদায়ক, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সিনেমা।
৫. ওয়াজিব (২০১৭)
পরিচালক: আননমারী জাসির
এক বাবা-ছেলের সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংস্কারকে তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।
নাজারেথ শহর নিজেই যেন সিনেমার একটি চরিত্র।
৬. ইট মাস্ট বি হেভেন (২০১৯)
পরিচালক: এলিয়া সুলেইমান
এক ফিলিস্তিনি প্যারিস ও নিউ ইয়র্কে দেশ খুঁজতে গিয়ে বুঝে যান, প্যালেস্টাইনের প্রতিচ্ছবি সেখানেও আছে।
হাস্যরস ও নীরবতার মাধ্যমে সমাজ ও রাজনীতির ব্যঙ্গ।
৭. দ্য প্রেজেন্ট (২০২০)
পরিচালক: ফারাহ নাবুলসি
বাবা-মেয়ের একটি সাধারণ দিনের মধ্যেই উঠে এসেছে দখলদারিত্বের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ছোট কিন্তু গভীর রাজনৈতিক বক্তব্য পাওয়া যাবে সিনেমাটিতে।
৮. ২০০ মিটারস (২০২০)
পরিচালক: আমিন নাইফেহ
মাত্র ২০০ মিটার দূরে পরিবারের কাছে যেতে জীবন বাজি রাখা এক বাবার গল্প। এটি হৃদয়বিদারক ও বাস্তবধর্মী সিনেমা।
৯.গাজা মন আমোর (২০২০)
পরিচালক: মোহাম্মদ ও আহমদ আবু নাসের
ভালোবাসা, ঐতিহ্য, দমন-পীড়নের মাঝে এক বৃদ্ধ মৎস্যজীবীর জীবনের গল্প এটি। হাস্যরস, ঐতিহাসিক প্রতীক, এবং বাস্তবতা মিলেমিশে এক অনন্য চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছে এটি।
১০. ফারহা (২০২১)
পরিচালক: দারিন সাল্লাম
১৯৪৮ সালের নাকবা-র সময় ঘটে যাওয়া বাস্তব গণহত্যার এক কিশোরীর চোখে দেখা ইতিহাস। ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার জন্য নির্মিত এক শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক সিনেমা। সিনেমাটি দেশ বিদেশে বেশ সুনামও কুড়ায়। –দ্য নিউ আরব









