মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৩ বছর করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকলেও এবার মূল্যস্ফীতির কারণে করদাতাদের বিষয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়কর সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
প্রস্তাবে নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়াও প্রতিবন্ধীদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাবও করেন অর্থমন্ত্রী। একইসঙ্গে কোনো প্রতিবন্ধীর পিতা-মামা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকার করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়।
এ ছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, আয়ের প্রথম সাড়ে ৩ লাখ টাকার ওপর কোনো কর দিতে হবে না। পরবর্তী ১ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ, পরবর্তী ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ ও বাকি আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে।
এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়।
এক বছরে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরী বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক কম। যদিও সরকারের হিসাবে গত এক বছরে দেশের মানুষের আয় বেড়েছে, মজুরিও বেড়েছে।কিন্তু সবই কাগজে-কলমে হিসাব। দেশে মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার এক বছর ধরেই কম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে কম হারে মজুরি বেড়েছে। গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৪ শতাংশের বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।
গত এক দশকের মধ্যে এবারই এত দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম। বিবিএস বলছে, দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এমন কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ৬ কোটির মতো। তাঁদের প্রায় সিংহভাগই মজুরিনির্ভর। এই শ্রেণির মানুষের ওপরই মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি পড়ছে।
এক বছর ধরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত সব ধরনের জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। সরকার বলছে ইউক্রেন যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক কারণেই এই উচ্চ মূল্যস্ফীতি কিন্তু বাস্তবে পুরোটা সত্য নয়। গত ১২ মাসে ১২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ কমেছে। ডলার-সংকট না কাটলে পণ্যের সরবরাহ-সংকট কাটবে না। রিজার্ভ কমতেই থাকবে। জিনিসপত্রের দাম ঠিক রাখতে হলে বাজার নির্বিঘ্ন রাখাটাই বড় চ্যাণেঞ্জ হবে এবারের অর্থবছরে।








