লড়াইটা যে শেষ বল পর্যন্ত গড়াবে তা হয়তো ভাবেনি কেউ। দুই শতাধিক রান তাড়ায় নেমে ৩০ রানে তিন ব্যাটারকে হারানো বাংলাদেশকে প্রথম আশা দেখান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফিফটি করে রিয়াদ ফেরার পর লঙ্কান বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান জাকির আলি অনিক। লড়াই করেও জেতাতে পারেননি এই লোয়ার মিডলঅর্ডার ব্যাটার। শেষ অবধি ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে লঙ্কানদের ব্যাটে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত। নির্ধারিত ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২০৬ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। জবাবে নেমে ৮ উইকেটে ২০৩ রানে থামে বাংলাদেশ। জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল সফরকারী দল।
রানতাড়ায় নেমে প্রথম ওভারে স্কোরকার্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই সাজঘরে ফিরে যান ডানহাতি ওপেনার লিটন দাস। তাকে সাজঘরের পথে দেখান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। এরপর হৃদয়কেও ফেরান তিনি।
দ্বিতীয় ওভারে বিনুরা ফের্নান্দোকে দুটি বাউন্ডারি মেরে রানের চাকা সচল রাখেন সৌম্য। বিনুরার পরের ওভারের প্রথম বলে সৌম্য সরকার ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। চারে নামা তাওহীদ হৃদয় ছক্কা দিয়েই ইনিংস শুরু করেন। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ আউট হন হৃদয়।
৮.৫ ওভারে ৬৮ রানে শান্তও ফিরে যান। ২২ বলে ২০ রান করেন টাইগার অধিনায়ক। সেখান থেকে জাকির আলি অনিককে সঙ্গী করে ঝড়ো ফিফটি তুলেছেন এই ব্যাটার। ২৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করে ফিরে যান ৫৪ রানে। ৩১ বলের ইনিংসটিতে ছিল দুটি চার ও চারটি ছক্কার মার। তার ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি এটি।
মাহমুদউল্লাহ ফিরে যাওয়ার পর লঙ্কান বোলারদের ওপর তান্ডব চালান জাকির। দলকে নিয়ে যান জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তবে সফল হতে পারেননি। ১৯.৩ ওভারে জয় থেকে ১০ রান দূরে থাকতে দাসুন শানাকার শিকার হয়ে ফিরে যান। চারটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৩৪ বলে ৬৮ রান করেন জাকির। এক ইনিংসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৬টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। এরআগে ছয় ব্যাটার পাঁচটি করে ছক্কা মেরেছিলেন।
লঙ্কানদের হয়ে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, বিনুরা ফের্নান্দো ও দাসুন শানাকা দুটি করে উইকেট নেন।
টসে হেরে ব্যাটে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেছিলেন অভিস্কা ফের্নান্দো। পরের বলে শরীফুলের ফাঁদে পা দেন লঙ্কান ওপেনার। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ২ বলে চার রান করে।
তৃতীয় ওভারে রিভিউ হারায় বাংলাদেশ। শরীফুলের ওভারটিতে কিছুটা ছড়াও হন কামিন্দু মেন্ডিস। ১২ রান আদায় করে লঙ্কানরা। তবে পঞ্চম বলে লেগ বিফোরের আবেদন আসে। আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন শান্ত। শরীফুল ইসলামের বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়ায় রিভিউ হারাতে হয়।
পঞ্চম ওভারে দ্বিতীয় শিকার এনে দেন তাসকিন। লেংথ ফেলা বল টেনে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন কামিন্দু মেন্ডিস। ১৪ বলে ১৯ রান করে থেমেছেন এই ব্যাটার।
৩৭ রানে দুই টপঅর্ডার ব্যাটারকে হারালেও ব্যাটিং অর্ডারে লঙ্কানদের চাপ অনুভব করতে দেননি কুশল মেন্ডিস। সাদিরা সামারাবিক্রমাকে সঙ্গী করে তুলে নিয়েছেন ঝড়ো ফিফটি। ১২তম ওভারে রিশাদ হোসেনের ওপর ঝড় তোলেন মেন্ডিস। দুটি ছক্কা ও একটি চারে হাঁকিয়ে পূর্ণ করেন ফিফটি। মেন্ডিসের ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করা ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কার মার।
৬১ বলে ৯৬ রানের উড়ন্ত জুটি গড়েন তারা। ১৪.৪ ওভারে জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মেন্ডিসকে। ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৩৬ বলে ৫৯ রান করেন এই ওপেনার।
ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৪৩ বলে ফিফটি পূর্ন করেন সামারাবিক্রমা। শেষের দিকে টাইগার বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন চারিথ আশালঙ্কাকে সঙ্গী করে। দুইশ পেরিয়ে থামান শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
আট চার ও এক ছক্কায় ৪৮ বলে ৬১ রান করেন সামারাবিক্রমা। ছয়টি ছক্কায় ২১ বলে ৪৪ রান করেন আশালাঙ্কা।
টাইগারদের হয়ে শরিফুল, তাসকিন ও রিশাদ একটি করে উইকেট নেন।








