গতবছর ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ছিলেন না দলের নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবাল। কপাল খোলে তানজিদ হাসান তামিমের। ওপেনিংয়ে সামর্থ্য দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে হতে চলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও। সেই তামিমের বাবা-মা একটা সময় অন্য আট-দশজন অভিভাবকের মতো চাইতেন, ছেলে বড় হয়ে হবেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করছে বিসিবি। দলের সঙ্গে থাকা কোচ এবং খেলোয়াড়রা জানাচ্ছেন ভাবনা। বুধবার প্রকাশিত ভিডিওতে কথা বলেছেন ২৩ বর্ষী ওপেনার তামিম।
ক্রিকেটে কীভাবে এলেন সে প্রসঙ্গে তামিম বলেছেন, ‘বেশিরভাগ বাবা-মা চান ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে। আমার বাবা-মাও ছোটবেলায় সেই স্বপ্নটাই দেখেছিলেন। গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে এসেছিলেন পড়াশোনা করানোর জন্য। আমি জিলা স্কুলে পড়াশুনা করতাম। খেলার উপর অনেকবেশি ঝোঁক ছিল। যখনই ছুটি পেতাম বা যতটুকুই সুযোগ পেতাম, পড়াশুনার ফাঁকে ওই সময়টুকু খেলাধুলার পেছনে ব্যয় করতাম।’
‘আমার বাসায় টিচার আসতো, স্কুলের পড়া আবার বাসায় টিচারের পড়া রেডি করা, আসলে সবকিছু মিলিয়ে খেলার জন্য সময় বের করাটা কঠিন হয়ে যেত। আম্মু আমাকে বলতো, যদি স্কুল থেকে এসে স্যারদের পড়াটা শেষ করতে পারি তাহলে বিকেলে খেলার সুযোগ দিবে। আমিও সেটাই করার চেষ্টা করতাম। এভাবেই আসলে খেলাধুলায় আসা।’
‘আম্মু প্রায়ই আমাকে বলতেন, যদি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করি তবে আমাকে একাডেমিতে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করে দিবেন। এমনকি ক্রিকেট ব্যাট-বল কিনে দেয়ার ক্ষেত্রেও একই শর্ত থাকত। এসব শর্ত পূরণ করলেই কেবল খেলতে দিতেন। আসলে ছোটবেলায় ওই খেলাধুলার নেশাটা আমাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।’
মায়ের শর্ত পূরণ করে খেলার সুযোগ পেলেও তামিমের বাবা পছন্দ করতেন না খেলাধুলা। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া তামিম এখন অবশ্য সময়ে-দুঃসময়ে বাবা-মা দুজনকেই কাছে পান।
‘আব্বু যখন অফিস থেকে বাসায় ফিরতেন, অনেক সময় এসে আমাকে দেখতে পেতেন না। ওই সময়ে প্রায়ই দেখা যেত টিচার এসে বসে থাকত, আর আমি মাঠে খেলছি। এসবের জন্য বাবা অনেক রাগ হতেন। আসলে বাবার যে কঠোরতা এটা নিয়ে বেশিকিছু বলতে চাই না। তবে এখন আমার বাবা-মা দুজনেই পাশে থেকে সাহস জোগান। ভালো সময় বা খারাপ সময়, এখন তারা দুজনই আমার পাশে থাকেন। বাবা-মা দুজনই আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।’









