সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সন্দেহভাজন নেতা আবু হুসেইন আল-কুরায়শিকে তুরস্ক বাহিনী হত্যা করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। গত আগস্টে আবু হুসেইন আল-কুরায়শির পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর তিনি নিজ গোষ্ঠীটির দায়িত্ব নেন বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সংবাদ সংস্থা টিআরটি তুর্ককে বলেছেন, শনিবার তুরস্কের এমআইটি গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে আইএস নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আইএস এখনও পর্যন্ত এই অভিযান সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেনি।
তবে বিবিসি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, এমআইটি গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কুরাইশিকে পর্যবেক্ষণ করছিল। “আমরা কোন বৈষম্য ছাড়াই সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে সিরিয়ার সূত্র জানায়, তুর্কি সীমান্তের কাছে উত্তরাঞ্চলীয় শহর জান্দারিসে এ অভিযান চালানো হয়।
গত নভেম্বর মাসে জিহাদি গোষ্ঠী তাদের নেতা আবু আল-হাসান আল-হাশেমি আল-কুরায়শির মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, কুরায়শির ২০২২ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ায় বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়ান আর্মির অভিযানে নিহত হন।
এর আগে ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বন্দুকযুদ্ধের পরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী জিহাদি গোষ্ঠীর পূর্ব নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরায়শির আস্তানা ঘেরাও করলে তখন তিনি একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে এবং তার পরিবারকে হত্যা করেন। পরে আবু আল-হাসান আল-হাশেমি আল-কুরায়শির গোষ্ঠীটির দায়িত্ব নেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সে সময় বলেছিলেন, এই অভিযান বিশ্বের জন্য একটি বড় সন্ত্রাসী হুমকিকে সরিয়ে দিয়েছে।
আইএস একসময় ৮৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার (৩৪ হাজার বর্গ মাইল) উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে উত্তর ইরাক জুড়ে বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে এবং প্রায় ৮ মিলিয়ন মানুষের উপর তার নৃশংস শাসন চাপিয়েছে।
২০১৯ সালে গোষ্ঠীটিকে তার শেষ অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, কিন্তু জাতিসংঘ জুলাই মাসে সতর্ক করে বলেছিল, এই পদক্ষেপের একটি অবিরাম হুমকি রয়ে গেছে।
সিরিয়া এবং ইরাকে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার যোদ্ধা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যারা বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকায় থাকে এবং হিট-এন্ড-রান হামলা, অ্যামবুস এবং রাস্তার পাশে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইএসের আঞ্চলিক সহযোগীরা বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও হুমকি সৃষ্টি করে। জাতিসংঘ বলেছে , সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সুপ্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্কগুলো আফগানিস্তান, সোমালিয়া এবং লেক চাদ অববাহিকায় অবস্থিত।









