মুক্তির পর সিনেপ্লেক্সগুলোতে সাড়া ফেলে রায়হান রাফী পরিচালিত ছবি ‘সুড়ঙ্গ’। এর মধ্যেই সম্প্রতি ছবিটি পাইরেসির কবলে পড়ে। এই পাইরেসি ঠেকাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে যান রায়হান রাফী, আফরান নিশো, তমা মির্জা এবং প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল।
ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, সুড়ঙ্গ টিম এসে পাইরেসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা পাইরেসির বিষয়টি তদন্ত করছি। যারা পাইরেসি করেছে তারা যেন এটি সরিয়ে ফেলেন। নইলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে আপলোড করবে শুধু সে অপরাধী না, এটি যারা শেয়ার করবে প্রত্যেকেই সমান অপরাধী।
ইউটিউব কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পাইরেসি করা ‘সুড়ঙ্গ’। অভিযোগ করার পর ডিবি অফিসে আফরান নিশো বলেন, এই ঘটনার নিন্দা জানাই। কারণ সিনেমাটিকে হত্যা করার চেষ্টা এটি। পাইরেসির ঘটনা যেন আর কারো সঙ্গে না ঘটে। এই পাইরেসির ঘটনা আমরা সহজভাবে নেব না। যারা সিনেমাপ্রেমী তারা যেন নিজেদের অবস্থান থেকে পাইরেসির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন সেই আহবান জানাই।
রায়হান রাফী বলেন, যারা না বুঝে ফেসবুক ইউটিউবে সুড়ঙ্গ পাইরেসি ছড়াচ্ছে তারা এটা অন্যায় করছেন। যারা এগুলা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আরও প্রায় চারদিন আগে পাইরেসি হয়েছে ‘সুড়ঙ্গ’। এর প্রতিবাদে বুধবার রাতে রায়হান রাফী দাবী করেছেন, পাইরেসি করা হলো পরিকল্পনা করে।
তিনি বলেন, পাইরেসি হয়েছে বাংলাদেশের ভার্সন। সিনেমার দুই দেশের ভার্সনে কী কী ফারাক, সেগুলো আর কেউ না জানলেও আমরা তো জানি। একটি সুনির্দিষ্ট চক্র সুড়ঙ্গের পেছনে লেগেছে, তাদের কারণে পাইরেসির শিকার হয়েছে সুড়ঙ্গ। এই পাইরেসি কারা করেছে, তা আমরা চিহ্নিত করছি।
”এটা বাংলাদেশ থেকেই হচ্ছে। আমাদের সাথে আইনি সংস্থাগুলোও কাজ করছে। এই ভিডিওগুলো যারা অনলাইনে ছড়িয়েছে; ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, বিভিন্ন সাইটে আপলোড করেছে কিংবা শেয়ার করেছে তাদের সবার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে।”
যারা পাইরেসি করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে রায়হান রাফী বলেন, পাইরেসি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এই অপরাধের শাস্তি অপরাধীদের পেতেই হবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করবোই। আরেকটি কথা না বললেই নয়, যে কোনো ইস্যু নিয়ে কত লেখালেখি হয়, ভিডিও কনটেন্ট হয়, প্রতিবাদ হয়। অথচ এই বিষয়ে তারা নিশ্চুপ! অনেককেই দেখছি আমাদের সিনেমা পাইরেসি হয়ে যাওয়াকে সেলিব্রেট করতে। কিন্তু তারা জানে না, যারা সত্যিকারের সিনেমাপ্রেমী, তারা পাইরেসির সিনেমা দেখছে না। তারা হলে গিয়েই দেখছে।







