পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে হামলার শিকার গুরুতর আহত এটিএন নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার জাবেদ আখতারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই হামলার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকরা আজকের রায়ের ব্রিফিং বর্জন করে অ্যানেক্স ভবনের সামনে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এলআরএফ’র নিন্দা
এটিএন নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার জাবেদ আখতারের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে আইন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এল আর এফ)।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবে কাম্য নয়। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার পাবনার ইশ্বরদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার রায় হয় হাইকোর্টে। ওই রায়ের পর আইনজীবীদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। সে সময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন পাবনার ইশ্বরদী এলাকার বিএনপির কয়েকশ নেতা-কর্মী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। ধাক্কাধাক্কির সময় এটিএন নিউজের সিনিয় রিপোর্টার জাবেদ আখতারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের। একপর্যায়ে পাবনার ইশ্বরদী এলাকার বিএনপির ২০-২৫ নেতা-কর্মী জাবেদ আখতারকে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এসময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তাদের মারধরের শিকার হন সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম পান্নু, সিনিয়র সাংবাদিক হাসান জাবেদসহ বেশ কয়েকজন। ভাংচুর করা হয় টেলিভিশনের মাইক্রোফোন। ঘটনার পর ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জাবেদ আখতারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এসআরএফ’র নিন্দা
এটিএন নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার জাবেদ আক্তারের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ)। ফোরামের সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা শুধু ন্যাক্কারজনকই নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর প্রকারান্তরে হামলা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের হামলা স্বাধীন বিচার বিভাগের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে।









