অসাধারণ অভিনয় দিয়ে ইতিমধ্যে সবার মন জয় করেছেন ‘পঞ্চায়েত’ সিরিজের ক্রান্তি দেবী ওরফে সুনীতা রাজওয়ার! এই সময়ে তাকে চেনেন না এমন সিনেমাপ্রেমী পাওয়া দুস্কর! সম্প্রতি নিজের অতীত নিয়ে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী
জানিয়েছেন, এক সময় তিনি তার বাবার পেশার কথা বলতে গিয়ে নাকি লজ্জা পেতেন। কারণ তার বাবা ছিলেন একজন ট্রাক ড্রাইভার! তবে এখন চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু কেন লজ্জা পেতেন সুনীতা?
আসলে যে সময়ের কথা সুনীতা বলেছেন, তখন তিনি স্কুলের ছাত্রী। তার বাবা পেশায় একজন ট্রাক চালক , এই পরিচয় যথাসম্ভব স্কুলের অন্যদের কাছ থেকে লোকানোর চেষ্টা করতেন! কারণ সেখানকার স্কুলের বহু ছাত্র-ছাত্রীর বাবা হয় ব্যবসায়ী ছিলেন, না হলে পেশায় আইনজীবী বা ডাক্তার ছিলেন। বৃত্তশালী পরিবার থেকে আসা ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তথাকথিত ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন। আর তাকে সেই জায়গাটা দিতে গিয়েই বাবাকে ট্রাক চালাতে হতো। কিন্তু বাবা ট্রাক চালান, এই কথা সকলের সামনে বলতে ছোটবেলায় লজ্জা পেতেন অভিনেত্রী।
তাই প্রতি বছর নতুন ক্লাসের শুরুতে যখন নিজের পরিচয় ও বাড়ির সম্পর্কে বলতে বলা হতো, তখন সুনীতা তার বাবার আসল পেশার কথা না জানিয়ে বানিয়ে বানিয়ে অন্য কিছু একটা বলে দিতেন। কারণ তার মনে হতো যদি বাবার আসল পেশার কথা সবাইকে জানিয়ে দেন, তাহলে হয়তো বন্ধুরা তার সঙ্গে মিশবেন না। একসঙ্গে বসে টিফিন করবেন না। সব কিছু থেকে বাদ যেতে হবে তাকে।

তবে যখন তিনি বড় হয়ে ওঠেন তখন ধীরে ধীরে বুঝতে শেখেন, পাল্টে যায় তার মনোভাব। তিনি বুঝতে পারেন বাবার এই পেশা লোকানো বা লজ্জা পাওয়ার বিষয় নয় এটা, বরং অনেকটা গর্বের। পাশাপাশি তিনি এও জানান, তার বাবার পেশা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে এবং তার মূল্য উপলব্ধি করতে তাকে অনেক সাহস সঞ্চয় করতে হয়েছিল। এর জন্য অনেকটা সময়ও লেগেছিল। পাশাপাশি সুনীতা এও জানান, বাবা ট্রাক ড্রাইভার হওয়ার আগে এক দোকানে সহকারী হিসাবে কাজ করতেন, এবং তার সারাটা জীবনের সমস্ত সঞ্চয় পরিবারের জন্যই উৎসর্গ করেন।
শুধু পঞ্চায়েত নয়, ‘গুল্লাক’ মতো সিরিজ দিয়েও বহু দর্শকের মন জয় করেছেন সুনীতা। সেই সঙ্গে নিয়মিত সিনেমাতেও দেখা যাচ্ছে তাকে। সর্বশেষ কান চলচ্চিত্র উৎসবেও দেখানো হয়েছে তার অভিনীত ছবি। তিনি নিজেও উপস্থিত হয়েছিলেন উৎসবে।









