দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (এসপিএল) ব্যবসায় দেখা দিয়েছে মন্দা।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর অংশে কোম্পানিটির গত বছরের তুলনায় আয় কমেছে ৯২৭ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একইভাবে কমছে দ্বিতীয়ার্ধের আয়ও। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অর্ধ-বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফায় পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা আয় হয়েছে বিদ্যুৎ খাতের এই প্রতিষ্ঠানটির। তবে আগের বছরের হিসাবে একই সময়ে এই পরিমাণটি ছিল ৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আয় কমেছে ৯২৭ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। আগের বছরের হিসেবে একই সময়ে যা ছিল ৩০৮ কোটি টাকা।
চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় অংশে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৮২৯ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরের একই অংশে যা ছিল ১ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। ফলে এ অংশে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময় যা ছিল ১৫২ কোটি টাকা।
চলতি বছরের হিসাবের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা, যা আগের বছরের হিসাবে একই সময় ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছিল ৩৯ টাকা ৭৭ পয়সা।
কোম্পানির দাবি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হারে তারতম্যের কারণে মুনাফা কমেছে। এছাড়া স্থানীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে ঘাটতিতে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিলম্বে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে কোম্পানিটি। তাদের আপত্তি ছিল, অনেক দেরিতে যখন বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, তখন ডলারের দর আর আগের অবস্থায় থাকে না। দেরিতে বিল পরিশোধ করায় ডলারের দামের সঙ্গে তারতম্য দেখা দেয়। এতে বড় অঙ্কের ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় তাদের মুনাফা কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সায়, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৭২ পয়সা।
২০২১-২২ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে সামিট পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৫ টাকা ২৫ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৭২ পয়সায়, আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সা।
২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২১ শেষে সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সায়। এ অর্থবছরে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৮ টাকা ৫৩ পয়সা।
২০০৫ সালে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৯। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ১৮ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







