শুক্রবার দেশের ৫টি প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আম কাঁঠালের ছুটি’। রাজধানীর দুটি আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ সহ চট্টগ্রাম, কেরানিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে দেখা যাবে শিশুতোষ ঘরানার এই ছবি।
নির্মাতা নূরুজ্জামান জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে সিনেমাটি দর্শকের। টিজার, ট্রেলার দেখে যারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন; আশা করি প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি তারা দেখবেন। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স (বসুন্ধরা শাখা) এবং যমুনা ব্লকবাস্টারে ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ দেখতে পারবেন দর্শক। এছাড়া কেরানিগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিন এবং নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপে প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি চলবে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাকারের তরফে জানানো হয়, দ্বিতীয় সপ্তাহে এ তালিকায় আরও কিছু নতুন প্রেক্ষাগৃহ যুক্ত হবে। এছাড়া দেশের বাইরেও সিনেমাটির বাণিজ্যিক প্রদর্শনী শুরু হবে চলতি মাসের শেষদিকে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত এই চলচ্চিত্রটি চলতি মাসের ৬ তারিখে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিশেষ প্রদর্শনী হয়। হল ভর্তি দর্শক এদিন সিনেমাটি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সিনেমার ট্রেলার প্রকাশিত হলে বেশ আলোচনা তৈরী হয়। বহু দর্শক ‘আম কাঁঠালের ছুটি’র ট্রেলার দেখেই নিজেদের শৈশবে কাটানো মুহূর্তের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। জানিয়েছেন, ট্রেলারটি তাদের শৈশবের স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছে।
শরীফ উদ্দিন সবুজের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘আম কাঁঠালের ছুটি’। গত শতাব্দীর সত্তর-আশি কিংবা মধ্য নব্বইয়ের দশকে যারা শৈশব-কৈশোর পার করেছেন তারা তাদের সেই বয়সের যাপিত জীবনকে নস্টালজিক আবহে তৈরি এই চলচ্চিত্রে দেখতে পাবেন বলে মনে করেন নির্মাতা। সেই সাথে হারিয়ে যাওয়া কিংবা হারাতে বসা প্রাকৃতিক পরিবেশ আর আমাদের নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হবে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা। চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক সংস্করণের নামকরণ করা হয়েছে ‘সামার হলিডে’।
সিনেমাকার প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটির পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সাত বছরের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের গল্প। খুব ছোট একটি কারিগরী ইউনিট আর আনকোরা একদল অপেশাদার অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে গাজীপুরের হারবাইদ সংলগ্ন প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা লোকেশনে ধারণ করা এই চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন নির্মাতা নিজেই, সাথে ছিলেন ম্যাক সাব্বির। প্রযোজনা, পরিচালনা, চিত্রনাট্য রচনার পাশাপাশি সাউন্ড ডিজাইনও করেছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছে লিয়ন, জুবায়ের, আরিফ, হালিমা ও তানজিল। আরও ছিলেন ফাতেমা, কামরুজ্জামান কামরুল, আব্দুল হামিদ প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির প্রধান সহকারী পরিচালক যুবরাজ শামীম।








