নয় বছর পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে এসে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখছে ভারতের নারী ক্রিকেট দল। মিরপুরে টাইগ্রেস স্পিন সামলাতে জবুথবু অবস্থা স্মৃতি মান্দানা, হারমানপ্রীত কৌর, শেফালি ভার্মাদের। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং শক্তির দল হলেও টি-টুয়েন্টি সিরিজে সফরকারীদের দেখা গেছে বেশ নড়বড়ে। জাতীয় দলের নবীন সদস্য সুলতানা খাতুনের অফস্পিনে বেশি ধুঁকতে দেখা গেছে ভারতীয় টপঅর্ডার।
৩ ম্যাচে মূল্যবান সাতটি উইকেট নিয়েছেন সুলতানা। আউট করেছেন ভারতের সব তারকা ব্যাটারকেই। রান দেয়ায়ও ছিলেন ভীষণ কিপটে। নতুন বল হাতে পেলেই মেতে ওঠেন উইকেট শিকারের উৎসবে। রোববার থেকে মিরপুরে শুরু হতে চলা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও সুলতানার কাছে ধারাবাহিকতা দেখতে চান নিগার সুলতানা জ্যোতি।
সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগ্রেস অধিনায়ক বললেন, ‘সুলতানা নতুন বলে অনেক বেশি ধারাবাহিক। নতুন বলে অ্যাটাকিং বোলিং করছে, পরে এসে মিডল ওভারেও। ও অনেকবেশি পরিশ্রম করে। আমাদের যে নতুন স্পিন বোলিং কোচ এসেছেন, তিনি সুলতানাকে নিয়ে বিশেষ কিছু কাজ করেছেন। ওর যে বোলিং অ্যাকশন সেটার কারণে আরও বেনিফিট পেয়ে থাকে। অনেক ভালো গ্রিপ পায়, টার্ন পায়। সব থেকে বড় কথা ও উইকেটটা ভালোভাবে পড়তে পেরেছে। কোন ব্যাটারের বিপরীতে কীভাবে বল করলে সাকসেস হবে সেটি অনেকবেশি তাড়াতাড়ি বুঝতে পেরেছে। যে কারণে সফল হয়েছে। টি-টুয়েন্টিতে অনেক ভালো করেছে। অধিনায়ক হিসেবে আমার চাওয়া তো থাকবেই ওয়ানডেতেও এরকম ধারাবাহিকতা বজায় থাক। ওর জন্য অনেক বড় সুযোগ থাকবে নিজেকে মেলে ধরার।’

সুলতানা নামের অর্থ রানী। ২৭ বছর বয়সে জাতীয় দলে এসে বৈচিত্র্যময় স্পিন আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এবছরের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফরে সালমা খাতুনকে বিশ্রাম দিয়ে সুলতানাকে সুযোগ দেয়া হয়। ভালো বোলিংয়ের সুবাদে ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজের দলেও টিকে যান। ভারত সিরিজে সালমা দলে থাকলেও কম্বিনেশন ও পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েছেন প্রথম টি-টুয়েন্টি খেলার পর। প্রায় একদশক বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে রাজ করেছেন সালমা। এবার শুরু হল সুলতানার পথচলা। বড় দলের বিপক্ষে পারফর্ম করে বোলিংয়ে হয়ে উঠছেন বাংলাদেশের বড় ভরসার নাম।
সুলতানার বাবা ছিলেন পুলিশ। মেয়েকেও দেখতে চেয়েছিলেন একই পেশায়। চাকরিও হয়ে গিয়েছিল প্রায়। ২০১৮ সালের দিকে পুলিশের চাকরির সুযোগ ফেলে ফার্মগেটে মেয়েদের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতিতে নাম লেখান। চার বছরের মাথায় আসে জাতীয় দলে ডাক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পথচলার শুরুটাও হয়েছে দারুণ। এবার পালা আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার।







