ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রশাসন ভবনে সার্টিফিকেট তুলতে আসা শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অব্যবস্থাপনার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে প্রশাসন ভবনের উত্তর ব্লকের তিনতলায় অবস্থিত সার্টিফিকেট প্রদানকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের এই দপ্তরটি।
বার বার অভিযোগ দিয়েও যেনো কোন ফল পাওয়া যায় না সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে। যার ফলে হয়রানিকেই স্বাভাবিকভাবে নিয়ে মুখে কুলুপ এটে বসে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে প্রশাসন ভবনের সার্টিফিকেট প্রদানকারী এই দপ্তরগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো তথ্যকেন্দ্র।
জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১০০ শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে আসেন প্রশাসন ভবনে। তবে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে আসেন। সেই হিসেবে দপ্তরটিতে সার্টিফিকেট উত্তোলনে সহায়তাকারী সংশ্লিষ্ট কর্মচারী মাত্র ৫-৬ জন। সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে আসা সবাইকেই পড়তে হয় কোনো না কোনো হয়রানির মুখে।
নিজেদের এমন অপারগতা স্বীকার করে জনবল ও জায়গার সংকটকে দায়ী করেছেন ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, নিচের দিকের কর্মচারী লেভেলের তীব্র সংকট। এমন অবস্থায় পরীক্ষার সময়গুলোতে আবার এখান থেকে কর্মচারী পাঠাতে হয়। যার ফলে আমাদের এই কাজগুলো করতে দারুণ বেগ পেতে হচ্ছে। আমাদের জায়গারও সংকট রয়েছে। যার ফলে আমাদের সার্টিফিকেট রুমে পর্যাপ্ত সিকিউরিটি নাই। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের জন্য একটি স্বতন্ত্র জায়গা থাকা বাধ্যতামূলক যেখানে গোপনীয়তা বজায় রাখা যাবে। যা আমাদের এই মুহুর্তে জরুরী প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি ইতোমধ্যেই অবগত। সার্টিফিকেট উত্তোলনে অটোমেশন সার্ভিস চালু করতে আমাদের একটি কোম্পানির সাথে প্রাথমিকভাবে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি গুলো শেষ করা প্রয়োজন। বিষয়গুলো নিয়ে আমি আমার শিক্ষকদের কাছ থেকেও অভিযোগ পেয়েছি। কিভাবে এই প্রক্রিয়াটি ওয়ান স্টেপ সার্ভিসের আওতায় আনা যায় তা আমাদের পরিকল্পনায় আছে। অলরেডি প্রভোস্ট কাউন্সিলের মিটিংয়েও বিষয়টি তোলা হয়েছিলো। আশা করা যায় খুব দ্রুতই বিষয়টি সমাধানে আসবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসসহ প্রশাসন ভবনের সকল দপ্তর গুলোকেই শিক্ষার্থী বান্ধব করাটা এখন সকল সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবী।









