সুদানে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার পরেও কিছু অংশে এখনও যুদ্ধ চলছে। রাজধানী খার্তুম সংলগ্ন শহর ওমদুরমান থেকে ফোনে কথা বলার সময় সংবাদদাতা মোহাম্মদ ওসমান বিবিসিকে বলেন, টিভি এবং রেডিও ভবনের কাছে যুদ্ধ শুরু হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে শুক্রবার ২৮ এপ্রিল সুদানের ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতি মেয়াদ শেষ হওয়ায়, এই বিরতি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছেন সুদানের সেনাপ্রধান। সংবাদদাতা আরও বলেন, যুদ্ধের জন্য জ্বালানী এবং ডাক্তারের অভাব দেখা দিয়েছে। মানুষ এখন খাদ্য এবং অর্থ পাওয়ার জন্য লড়াই করছে।
রয়টার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান আঞ্চলিক আফ্রিকান ব্লক ইন্টারগভর্নমেন্টাল অথরিটি অন ডেভেলপমেন্টের প্রস্তাবে প্রাথমিক এই অনুমোদন দিয়েছেন। প্রস্তাবটি বিস্তারিত আলোচনার জন্য দক্ষিণ সুদানের জুবায় সেনাবাহিনী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) থেকে দূত পাঠানোর পরামর্শ দেয়।
বর্তমান যুদ্ধবিরতি সোমবার স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও আরএসএফের নেতাদের মধ্যে ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ক্ষমতার লড়াইয়ে বিরতি এনেছিল।
বিবিসির সংবাদদাতা বলেছেন, খার্তুম এবং ওমদুরমানের লোকেরা বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার পাওয়া কঠিন হচ্ছে। বুধবার বিস্ফোরণ ও বন্দুকযুদ্ধের শব্দ শোনা যায। যুদ্ধ বিরতি চলমান থাকলেও সুদানের আকাশে যুদ্ধ বিমান উড়তে দেখা গেছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৫৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, তারা রোগের কারণে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে আরও অনেক মৃত্যুর আশা করছে। খাদ্য ও পানির অভাব এবং স্বাস্থ্য সুবিধায় ব্যাঘাত ঘটাবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে।
অনেক দেশ থেকে ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি সরিয়ে নেয়া মানুষসহ একটি নৌকা বুধবার সৌদি আরবে পৌঁছেছে এবং জার্মানি ও ফ্রান্স উভয়ই বলেছে তাদের সমস্ত নাগরিক এখন দেশ ছেড়েছে।
বুধবার ব্রিটিশ নাগরিকদের নিয়ে আসা প্রথম ফ্লাইটটি সাইপ্রাসের লারনাকা হয়ে স্ট্যানস্টেডে অবতরণ করে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছে, ছয়টি ফ্লাইটে সুদান থেকে প্রায় ৫৩৬ জন ব্রিটিশ নাগরিককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
নাইজেরিয়ান ইন ডায়াস্পোরা কমিশনের চেয়ারম্যান বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, সুদানে আটকে পড়া নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেয়া শুরু হয়েছে। ধারণা করা হয় যে সুদানে ৫ হাজার নাইজেরিয়ান বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী।








