১১১ বছর আগে হিমবাহের সাথে ধাক্কা খেয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল ‘টাইটানিক’। মহাসাগরের প্রায় সাড়ে চার হাজার মিটার নীচে এখনও রয়েছে তার ধ্বংসাবশেষ। একটি পর্যটন সংস্থা টাইটানিকের সেই ধ্বংসাবশেষ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল পর্যটকদের। তবে ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে পর্যটকসহ নিখোঁজ হয়ে যায় সাবমেরিনটি।
বিবিসি জানিয়েছে, পর্যটকবাহী সাবমেরিনটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরই আটলান্টিকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। পর্যটন সংস্থা ওশানগেট জানিয়েছে, জাহাজে থাকা পাঁচ জনকে উদ্ধারের জন্য সব কিছুই করা হচ্ছে।
ইউএস কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ডুবে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ছোট সাবমেরিনটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্ধার অভিযান চলছে। আশা করছি ৭০ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে এটিকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
জানা যায়, টাইটানিক দেখতে যাওয়ার ওই যাত্রা ছিল আট দিনের। টাইটান নিউ ফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জন’স থেকে সাবমেরিনটি যাত্রা শুরু করে। সেখান থেকে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রতি টিকিটের দাম ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার বেশি।
পর্যটন সংস্থার দাবি, যানটির ভিতরে পাঁচ জন যাত্রীর চার দিন চলার মতো অক্সিজেনের মজুত ছিল। নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন ৫৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ ধনকুবের হামিশ হার্ডিং। নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯১২ সালে ১৫ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে যাত্রা শুরু করে টাইটানিক। যাওয়ার কথা ছিল নিউইয়র্ক। কিন্তু প্রথম যাত্রাতেই একটি হিমবাহের সাথে ধাক্কা খায় জাহাজটি। জাহাজে থাকা ২,২০০ জন যাত্রী-কর্মীর মধ্যে ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষটি আটলান্টিকের প্রায় চার হাজার মিটার নীচে রয়েছে। ১৯৮৫ সালে ওই ধ্বংসাবশেষ প্রথম খুঁজে পাওয়া যায়। তারপর থেকে বহু সংস্থা টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে গবেষণাও করেছে।







