‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ব্যানার নিয়ে শ্লোগান দিতে-দিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।
প্রথমে মাজার গেটে পুলিশ শিক্ষার্থীদের আটকে দিলেও একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে বুধবার দুপুরে প্রথমে কয়েকশো শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্ট মাজার গেটের সামনে অবস্থান নেন। যেখানে ঢাবি বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইডেন কলেজ, নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, গ্রীণ ইউনিভার্সির্টি ও ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে মাজার গেটের সামনে যায়। মাজার গেট এসময় বন্ধ থাকায় গেটের বাইরে শিক্ষার্থীরা এবং গেটের ভেতরে আইনজীবীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

মাজার গেটে আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীসহ বিএনপি সমর্থিত শতাধিক আইনজীবী। এসময় মাজার গেটের ভেতরে দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম, শারমিন মুরশিদ, রেহেনুমা আহমেদ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটকের খবর শুনে কিছু আইনজীবী মাজার গেটের পশ্চিম পাশের ব্যারিকেড টপকিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং কিছু শিক্ষার্থীকে ভেতরে নিয়ে আসেন। এ সময় আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দেন। কিছুক্ষণ পর আইনজীবীদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে চলে এসে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগন দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সমবেত কণ্ঠে গানও পরিবেশনে করেন। প্রায় আধঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা খুলে দেয়া মাজার গেট দিয়ে বেরিয়ে যান।

মঙ্গলবার দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে। সংগঠনটির অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম ও খুনের প্রতিবাদে এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। যেখানে ছাত্রসমাজের নয় দফা দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করতে শিক্ষক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও সব নাগরিকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।









