অনুমতি ব্যতীত গবেষণায় নিজের নাম প্রকাশ করার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের ১ম আবর্তনের শিক্ষার্থী রিফাত সুলতানা জাহান।
গতকাল ৩০ এপ্রিল প্রাক্তন শিক্ষার্থী রিফাত সুলতানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জানান। এরআগে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিম্নীর বিরুদ্ধে গবেষণা নিজের নামে প্রকাশ করার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিম্নী এর আগে নোবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকুরিরত ছিলেন। তিনি রিফাত সুলতানার এম. এ থিসিস সুপারভাইজার ছিলেন।
নোবিপ্রবির ১ম আবর্তনের শিক্ষার্থী রিফাত সুলতানা জাহানের গবেষণা নিজের নামে প্রকাশ করার অভিযোগ দায়েরের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগে রিফাত সুলতানা উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালীন সময়ে উক্ত কমিটি আমার আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না করে বরং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে এবং অবাস্তব ও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করে আমার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে অভিযোগ তুলে নেওয়ার অপচেষ্টা করেছে।
অভিযোগ তিনি আরও জানান, গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশে আমার “অনুমতি নেওয়ার” প্রসঙ্গে আমার অভিযোগের সপক্ষে যুক্তি এবং প্রমাণ উপস্থাপন করতে চাইলে তদন্ত কমিটি সেটিকে “ব্যক্তিগত আলোচনা” বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। অথচ অভিযুক্ত শিক্ষককে সমর্থন করে তার সাথে আমার অন্য বিষয়ের “হোয়াটসঅ্যাপ” এর ব্যক্তিগত আলোচনাকে তারা “আমার অনুমতি” নেওয়ার আলোচনা বলে চাপিয়ে দেওয়ার হীন চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, গবেষণা আর্টিকেল একটি জার্নালে প্রকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংশ্লিষ্ট সকল লেখকের সুস্পষ্ট সম্মতিপত্র বা “কনসেন্ট ফর্ম”। তদন্ত কমিটি আমাকে এমন কোনো সম্মতিপত্র দেখাতে পারেনি যেখানে আমার গবেষণা প্রকাশের জন্য আমার পূর্বানুমতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ আছে। বরং আমাকে প্রেরিত ই-মেইলে অভিযুক্ত শিক্ষক স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন যে তিনি গবেষণা আর্টিকেলটি প্রকাশের পূর্বে আমার কোনো প্রকার সম্মতি গ্রহণ করেননি।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ মার্চ (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিম্নীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী রিফাত সুলতানা জাহানের গবেষণা নিজের নামে প্রকাশ করার অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে রিফাত সুলতানা জাহান উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিম্নীর অধীনে “Subjugation, Marginalization and Double Colonization: A Reading of The Avarodhbasini, The Dark Holds No Terrors and The God of Small Things” শিরোনামে এম.এ থিসিস সম্পন্ন করি। সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি আমার কোনরূপ অনুমতি বা সম্মতি ব্যতীত “International Journal of English Literature and Social Sciences, Vol-9, Issue-6, Nove-Dec 2024” শীর্ষক জার্নালে “Breaking the Silence: A Quest for Self in Shashi Deshpande’s The Dark Holds No Terrors” শিরোনামে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে একটি প্রবন্ধ (আর্টিকেল) প্রকাশ করেন যেখানে তিনি আমাকে দ্বিতীয় লেখক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সহকারী অধ্যাপক নিম্নীর প্রকাশিত নিবন্ধের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ (৫টি অনুচ্ছেদ বা প্যারাগ্রাফ) তিনি আমার এম.এ থিসিসের মূল বইয়ের ৩ নং অধ্যায় থেকে সরাসরি অনুলিপি করেছেন। আমার মূল থিসিস ছাড়াও ৬ জানুয়ারি ২০১৯ সালে তাকে প্রেরণকৃত থিসিসের খসড়া নমুনার ৫ নং অধ্যায়, ২৩ শে আগস্ট ২০১৯ এই প্রেরণকৃত থিসিসের বই আকারের খসড়া নমুনার ৪ নং অধ্যায় এবং আমার থিসিস উপস্থাপন (প্রেজেন্টেশন) থেকেও তিনি অনুলিপি, ভাবানুবাদ ( প্যারাফ্রেজিং) এবং পুনর্ব্যক্ত যুক্তি (রিফ্রেজিং) ব্যবহার করেছেন। এই নিবন্ধনের মূল যুক্তি (প্রবলেম স্টেটমেন্ট) এবং বিশ্লেষণ (ডিসকাশন) আমার এমএ থিসিসের ৩ নং অধ্যায়ের প্রতিফলন করে। এমনকি তার প্রকাশিত নিবন্ধের শিরোনামও ৬ জানুয়ারি ২০১৯ এ তাকে প্রেরণকৃত থিসিসের খসড়া নমুনা ৫ নং অধ্যায়ের শিরোনামের প্রতিফলন করে।
সার্বিক বিষয় নিয়ে রিফাত সুলতানা জাহান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এই তদন্ত কমিটির চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগের বিষয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছি। আমার কষ্টার্জিত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অনুমতিবিহীন অপব্যবহারের ন্যায়বিচার যতদিন পর্যন্ত আমি না পাব, আমি আমার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সত্যের জয় একদিন অবশ্যই হবে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।









