জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদেরকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছি।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির (বিআরপিওয়া) অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সমিতির মৃত্যুবরণকারী সকল সদস্য ও গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির (বিআরপিওয়া) সভাপতি এম আকবর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ইয়াসমিন গফুর। বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিয়া লুৎফর রহমান চৌধুরী।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে এরূপ পুলিশ এদেশের মানুষ দেখতে চাননি। আন্দোলনে হাজার ছাত্র-জনতার মৃত্যু দুঃখের কাহিনি রচনা করেছে। আমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ। কী কারণে মানুষের এতো ক্ষোভ পুলিশের উপরে? জুলাই-আগস্টের ঘটনা আমাদেরকে সামাজিকভাবে অনেক নিগৃহীত করেছে। এখন পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদেরকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছি। এই ট্রমা থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। বের হয়ে আসার জন্য একটাই উপায়, মানুষকে সেবা দিতে হবে। সেবা দেওয়ার মাধ্যমেই একমাত্র পুলিশের হারানো ইমেজ বা গৌরবকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ্।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, বিশেষ করে পুলিশে গত ১৫ বছরে যারা নেতৃত্বে ছিলেন তারা কি ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা কি কর্মকাণ্ড করলেন যে এদেশের মানুষ পুলিশের প্রতি এতো তিক্ত-বিরক্ত হলো। যার বহিঃপ্রকাশ ৪৪ জন পুলিশ সদস্যকে জীবন দিতে হলো, শত শত সহকর্মীকে নানাভাবে ক্ষত-বিক্ষত হতে হলো। সঙ্গে পুলিশের থানা, ফাঁড়ি, অস্ত্র লুট হয়ে গেল। পুলিশের যারা নেতৃত্বে ছিলেন তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি-না বা নিতে পেরেছেন কি-না সেই বিচারের বিবেচনা আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক অ্যাসোসিয়েশন আছে, আমাদের দুটি আছে। একটি সার্ভিং অফিসারদের আরেকটি রিটায়ার্ড অফিসারদের। সব অ্যাসোসিয়েশনেই প্রতিযোগিতা, মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু আমি আশা করি সার্ভিং এবং অবসরপ্রাপ্ত অ্যাসোসিয়েশনের মতপার্থক্য কমিয়ে এনে নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধয় রেখে এগিয়ে যেতে পারি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অ্যাসোসিয়েশন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সেইরূপ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বিভিন্ন সামাজিক ও বিভিন্ন বিষয়ে এই সংগঠন যেন আরও জোরালো ভূমিকা পালন করেন।
এরআগে আইজিপি বাহারুল আলম সমিতির পক্ষ থেকে সমিতির পাঁচজন বয়োজ্যেষ্ঠ পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। কমিউনিটি পুলিশিং ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে “এস এম আহসান স্মৃতি পুরস্কার” প্রদান করা হয়। এছাড়াও নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সুরক্ষায় ভিকটিম সাপোর্ট কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে “প্রফেসর অনামিকা হক লিলি-ড. এম এনামুল হক এ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়।
সমিতির পক্ষ থেকে পুলিশ পরিবারের সন্তানদের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী ৪০জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে “মরহুম মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী-এম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এডুকেশন ফান্ড”, “মরহুম মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী-মরহুমা নূরজাহান বেগম এডুকেশন ফান্ড” এবং “এম সহীদুল ইসলাম চৌধুরী-মরহুমা খুরশিদা ইসলাম চৌধুরী এডুকেশন ফান্ড” এর আওতায় শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী ১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সমিতির পক্ষ থেকে “এম এন ভক্ত-শিপ্রা ভক্ত শিক্ষা ফান্ড” এবং “ক্ষিতিশ চন্দ্র মল্লিক-মায়া মল্লিক শিক্ষা ফান্ড” এর আওতায় শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
এসময় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সমিতির গত এক বছরের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়।








