আইনের দৃষ্টিতে স্টার উইটনেস বা তাঁরকা সাক্ষীর ধারণাটি বিভিন্ন বিচারব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন। আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে স্টার উইটনেস বা তাঁরকা সাক্ষীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। তবে কয়েকটি রায়ে স্টার উইটনেস বা তাঁরকা সাক্ষীর বিষয়টি প্রাসঙ্গিক ভাবে উঠে এসেছে।
ফৌজদারি আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত স্টার উইটনেস বা তাঁরকা সাক্ষী এমন সাক্ষীকে বোঝায় যিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ বা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং যার সাক্ষ্য অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এ ধরনের সাক্ষী সাধারণত বিচারিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, বিশেষত যখন তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হয়ে উঠে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম ১০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের জানান মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চলা মামলায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেবেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চলা এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল-১ এই মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়ছেন। এই মামলার ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্র্যাইব্যুনাল। পরবর্তীতে তিনি রাজসাক্ষী হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।
এই মামলাটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।









