পলাশ চৌধুরী: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাজারে লাগামহীন মূল্য এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে সঠিক ওজনে ও বিনা লাভে নিত্যপন্যের বাজার চালু করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে বিনা লাভের বাজারে অসংখ্য ক্রেতা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজার করছেন এখান থেকে। শহরের প্রধান বাজারের পাশেই সামিয়ানা টানানো একটি জায়গায় অস্থায়ী ভিত্তিতে চলছে এই বাজার। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বাজার করছেন বিনা লাভের বাজার থেকে।
এই বাজার ধারনাটির উদ্যোগ নিয়েছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু। তিনি জানান, বাজারে যতদিন স্বস্তি না ফিরবে ততদিন আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই বাজার চালিয়ে যাবো। গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই বাজার।
সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই বাজার খোলা থাকছে।
বাজারে শীতের সবজিসহ লালশাক, টমেটো, চাল, তেল, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, লেবু, মুলা, পেঁপে, লতা, লাউ, ডিম, আলু, প্যাকেট আটা, লবণ, বিস্কুট, কেক, তেল সব পাওয়া যাচ্ছে। উদ্যোক্তারা ভোরে কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে এনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। সেজন্য, কৃষকদের কাছ থেকে কেনা মূল্যেই বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য পেয়ে খুশি ক্রেতারা।
দেখা যায়, ক্রেতারাও খুব আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। যাঁর যতটুকু প্রয়োজন, নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের এই দোকানের মূল্যতালিকা দেখে এখন বাজারের অন্য দোকানিরাও দাম কমিয়ে আনছেন। এভাবে বিনা লাভের বাজার চালু থাকলে বাজারের সিন্ডিকেট সহজেই ভেঙে যাবে। সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে জিনিস কিনতে পারবেন।
একজন ক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, বাজারে ৭৫ টাকার লাউ কিনলাম ৪৫ টাকায়, এখনো জিনিষের দামে অনেক পার্থক্য আছে।
এই বাজারের উদ্যোক্তা মহসিন মিয়া মধু গণমাধ্যমকে বলেছেন, একজন কৃষক অনেক কষ্ট করে ফসল ফলান, সেই ফসল আড়তদারেরা কম টাকায় কিনে অধিক মুনাফায় পাইকারি বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন। সেই পাইকার আবার খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন।
যখন একজন ক্রেতা খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনেন, সেটা অনেক দাম দিয়ে কিনতে হয়। আমরা সরাসরি কৃষক ও ক্রেতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে দিচ্ছি। মানুষের উপকার হচ্ছে, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে এটাই আমাদের কর্তব্য।









