ক্রীড়াঙ্গনে এক দেশে জন্মগ্রহণ করে বাবা অথবা মায়ের পরিচয়ের দেশের হয়ে খেলার নজির নতুন নয়। হরহামেশাই এমন দেখা যায়। সেটি ব্যাপক আকারে ঘটেছে শ্রীলঙ্কার ফুটবলে। লঙ্কানদের জাতীয় দলে এমন এক দৃশ্য দেখা গেছে কদিন আগে, যেখানে শুরুর একাদশে ৮ জন বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন দেশটির জাতীয় দল কোচ আবদুল্লাহ আলমুতাইরি। ম্যাচে জয়ও পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে প্রথম লেগে কম্বোডিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ফিরতি লেগে ২-২ গোলে ড্র করে শ্রীলঙ্কা। পরে পেনাল্টি শুটে ৪-২ ব্যবধানে জয় তোলে লঙ্কাবাহিনী। ওই ম্যাচের আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কম্বোডিয়ার চেয়ে ২৫ ধাপ পিছিয়ে ছিল লঙ্কান দল। র্যাঙ্কিংয়ের তালিকায় থাকা ২১০টি দেশের মধ্যে সেই ম্যাচের পর পাঁচধাপ এগিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান এখন ২০০-এ।
কম্বোডিয়ার বিপক্ষে লঙ্কান দলে ছিলেন ইংল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা ফুটবলার। এক নজরে দেখে নেয়া যাক তাদের পরিচয়, যে বংশোদ্ভূতদের পায়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে লঙ্কান ফুটবলের পরিচয়।
জ্যাক হিঙ্গার্ট লন্ডনে জন্মগ্রহণ করলেও বাবার পরিচয়ে শ্রীলঙ্কার নাগরিকত্ব নিয়ে খেলছেন দেশটির জাতীয় দলে। ৩৩ বর্ষী রাইট-ব্যাক অস্ট্রেলিয়ার প্রথমসারির ‘এ’ লিগের দল ব্রিসবেন রোয়ারের হয়ে খেলছেন। আরেক ডিফেন্ডার ক্লাউদিও কামারকনেখটের বাবা জার্মানির হলেও মা শ্রীলঙ্কান।
জার্মানির চতুর্থ সারির দল ইন্ট্রেচ ট্রয়ের হয়ে খেলেন জেসন থায়াপারান। সেখানেই জন্ম। ২৮ বর্ষী ডিফেন্ডারও খেলছেন লঙ্কান জাতীয় দল জার্সিতে। মা জার্মানির হলেও তার বাবা শ্রীলঙ্কান।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে জন্ম মিডফিল্ডার অলিভার কেলাআর্টের। তিনি গায়ে জড়িয়েছেন লঙ্কান জাতীয় দলের জার্সি। অজিদের তৃতীয় সারির দল হাকুয়ারের খেলছেন ২৬ বর্ষী তারকা।
৩০ বর্ষী ওয়েড ডেকের অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম। তারা বাবা নেদারল্যান্ডসের এবং মা শ্রীলঙ্কান। লঙ্কান বংশোদ্ভূত এ ফরোয়ার্ড খেলেন অজিদের দ্বিতীয় সারির দল ড্যানডেনং থান্ডারের হয়ে। বেছে নিয়েছেন মায়ের দেশের জাতীয় দল জার্সিটাই।
মায়ের দিকের পরিচয়ে শ্রীলঙ্কার জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেয়া স্যাম ডুরেন্ট। আয়ারল্যান্ডের প্রথমসারির দল ডান্ডালক এফসির হয়ে খেলেন ২২ বর্ষী মিডফিল্ডার।
আধাবান রাজমোহনের বাবা সুইডিশ হলেও মা লঙ্কান। বর্তমানে সুইডেনের ক্লাব আইএফকে হ্যানিঞ্জের হয়ে খেলছেন ৩১ বর্ষী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। জার্মানির ঘরোয়া লিগের দল লুনেবার্গ এসকে হান্সার হয়ে খেলছেন মিডফিল্ডার লিওন পেরেরা। তার বাবা শ্রীলঙ্কার তামিল অঞ্চলের, তিনি বেছে নিয়েছেন বাবার দেশের জাতীয় দলটাই।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলেও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের আনাগোনা বেড়েছে। লাল-সবুজদের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার জন্ম ডেনমার্কে। বাবা-মায়ের সূত্রে তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে দাপটে খেলে চলেছেন বাংলাদেশ দলে।
ফিনল্যান্ডে জন্ম নেয়া ডিফেন্ডার তারিক কাজি খেলছেন বাংলাদেশ দলে। মা ফিনিশ নাগরিক হলেও বাংলাদেশি বাবার সূত্রে তিনি খেলছেন বাংলাদেশ দলে। হয়ে উঠেছেন নির্ভর যোগ্য।
নাইজেরিয়ান এলিটা কিংসলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়েছেন লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার আকাঙ্ক্ষায়।
এদিকে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা একমাত্র ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা চৌধুরী, লেস্টার সিটির হয়ে খেলছেন তিনি। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে। এর আগে ধারে খেলেছিলেন ওয়াটফোর্ডে। তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলার আগ্রহ জানিয়ে ইতিমধ্যেই পাসপোর্টও হাতে পেয়েছেন।









