যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে সম্প্রতি দক্ষিণী পরিচালক রঞ্জিতের নাম ফাঁস করেছিলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এবার সেই নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন এই অভিনেত্রী।
পিটিআই জানিয়েছে, কোচি সিটি পুলিশ কমিশনারকে লিখিত অভিযোগ ই-মেইলে পাঠিয়েছেন বাঙালি অভিনেত্রী শ্রীলেখা। তাতে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালে ‘পালেরি মাণিক্যম: ওরু পাথিরকোলাপথকথিন্তে কথা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রীলেখাকে আমন্ত্রণ জানান পরিচালক রঞ্জিত। এসময় যৌন অভিপ্রায়ে অভিনেত্রীকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেছিলেন তিনি।
শ্রীলেখার মামলা নথিভুক্ত করার তথ্য নিশ্চিত করে কোচি পুলিশ কমিশনার এস শ্যামসুন্দর পিটিআই-কে বলেন, ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড ৩৫৪ ধারায় মামলা রেজিস্ট্রি হয়েছে।’
২০০৯ সালে পরিচালক রঞ্জিত ‘পালেরি মাণিক্যম: ওরু পাথিরকোলাপথকথিন্তে কথা’ সিনেমা নির্মাণ করেন। এ সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হন শ্রীলেখা। সিনেমাটিতে মাম্মতির সঙ্গে তার অভিনয়ের কথা ছিল। পরে শ্রীলেখার পরিবর্তে শ্বেতা মেনন অভিনয় করেন।
রঞ্জিতের ডাকে কোচিতে গিয়েছিলেন শ্রীলেখা। এর আগে সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এক চিত্রগ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলাম। হঠাৎ রঞ্জিত আমাকে ডেকে নিয়ে যান তার শোয়ার ঘরের দিকে, সিনেমার গল্প বলার জন্য। আমি ভাবলাম, ভিড় এড়ানোর জন্য হয়তো তিনি ডাকছেন।’
শ্রীলেখা আরো বলেন, ঘরটি বেশ অন্ধকার ছিল। আমি ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক সিনেমাটোগ্রাফারের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। হঠাৎ আমার হাতের চুড়িগুলো নিয়ে খেলতে লাগলেন পরিচালক। আমরা নারীরা পুরুষের স্পর্শের অর্থ বুঝি। আমার অস্বস্তি হচ্ছিল, কারণ আমার ওর সঙ্গে আমার তেমন বন্ধুত্বও ছিল না। কিন্তু আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। তার পরে তিনি আমার ঘাড়ে ও চুলে স্পর্শ করতে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি সেই ঘর থেকে বেরিয়ে যাই।’
কেরালা চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমির প্রধান ছিলেন রঞ্জিত। শ্রীলেখা মিত্র অভিযোগ তোলার পর এ দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। তবে শ্রীলেখার আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৫১ বছর বয়সী এই নির্মাতা।- আনন্দবাজার









