চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
ব্রাউজিং

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি ২০১৯

একুশের গান, আল্পনা, লাল সূর্যের গৌরবময় ইতিহাস

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পরপরই রচিত ও গাওয়া একুশের গানটি আজ একীভূত বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের সাথে। ষাটের দশকে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আল্পনা আঁকা শুরু করেন শিল্পীরা। আর একাত্তরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর অমর একুশে পালনে শহিদ মিনারের পেছনে যুক্ত হয় স্বাধীনতার সূর্য। বায়ান্নর রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারির পরপরই গানটি রচনা করেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী। গানটিতে প্রথম সুর করেছিলেন আব্দুল লতিফ, পরে আলতাফ মাহমুদ।আলতাফ মাহমুদের সুরে গানটি প্রভাত ফেরিতে প্রথম গাওয়া হয় ১৯৫৪ সালে। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা বাংলা গানের মর্যাদা পেয়েছে…

‘বায়ান্নর কারণেই বাঙালি সংস্কৃতি আজ এতো সমৃদ্ধ’

বাঙালি সংস্কৃতিতে চেতনার সঞ্চারী বায়ান্ন। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, একুশের চেতনা এক অপরিমেয় শক্তি, প্রাণের দীপ্ত জাগরণ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাঙালি তার নিজস্ব সংস্কৃতিতে আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রতিটি শাখায় আরো মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে বাংলা।ভাষা সংগ্রামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মতে, বায়ান্নর কারণেই বাঙালি সংস্কৃতি আজ এতো সমৃদ্ধ।সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস মনে করেন, ভাষা আন্দোলন না হলে বাঙালি তার আলাদা সত্ত্বার সংস্কৃতি সারা বিশ্বে তুলে ধরতে পারতো না।সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অবশ্য বলছেন,…

সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ করেছে একুশ

বাংলা সাহিত্যে এক নতুন পথের দিশারী ভাষা আন্দোলন। সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ করেছে একুশ। জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মনে করেন, বাংলা সাহিত্যকে ভাষা আন্দোলন যতো গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া অন্যকিছু তা করতে পারেনি।তবে কালি ও কলম পত্রিকার সম্পাদক আবুল হাসনাত বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিদেশি ভাষা বা আন্তর্জাতিক সাহিত্য অঙ্গনে যে কাজ হয়েছে, ভাষা আন্দোলন নিয়ে ততোটা হয়নি।ভাষা আন্দোলনের পর থেকে নানাভাবে বাংলা সাহিত্যে উঠে এসেছে একুশ এবং একুশের চেতনা। কবিতা, গল্প এবং উপন্যাসে ভাষা নির্মাণসহ নতুন পথ খুঁজে দিয়েছে ভাষা…

বাঙালির জীবনে বিশাল ভূমিকা রাখা ভাষা আন্দোলন নিয়ে নেই যথেষ্ট চলচ্চিত্র

বাঙালির জীবনে বিশাল ভূমিকা রাখা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র প্রায় নেই বললেই চলে। ১৯৭০ সালে ‘জীবন থেকে নেয়া’য় ভাষা আন্দোলন ও গণ আন্দোলনকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন জহির রায়হান। এরপর তিনি ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাইলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তা বন্ধ করে দেয়।একইরকম বাধায় থেমে যেতে হয় পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম এবং আমজাদ হোসেনকে।স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর ভাষা আন্দোলনকে প্রথম রূপালি পর্দায় নিয়ে আসেন পরিচালক শহীদুল ইসলাম। আহমদ ছফার ‘ওংকার’ উপন্যাস অবলম্বনে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে নির্মিত হয়…

পোস্টার, ফেস্টুন, চিত্রকলায় ফুটে উঠেছে একুশের আবেগ

ভাষা আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছে দেশের শিল্পী সমাজ। আলোকচিত্র, পোস্টার, ফেস্টুন, চিত্রকলা, কার্টুনে সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে একুশের আবেগ আর চেতনা। ভাষা আন্দোলনের আলোকচিত্রগুলো আজ ইতিহাসের স্বাক্ষী। ছাত্র জনতার মিছিলে পুলিশের গুলি বর্ষণে রফিক উদ্দীনের মাথার খুলি উড়ে যাওয়ার ছবি তুলেন আমানুল হক। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যারাক হোস্টেল এবং প্রথম শহিদ মিনারের ছবি তুলে রেখেছিলেন ভাষা সংগ্রামী অধ্যাপক এম আই চৌধুরী এবং ডা. হাফিজ।৫৩ সালে ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে প্রথম শহিদ মিনারের ছবি তুলেন ভাষা সংগ্রামী এমদাদুল হক।তখন ঢাকা…

মায়ের মতোই ভালোবাসাময় মায়ের ভাষা

মায়ের মতোই ভালোবাসাময় মায়ের ভাষা। ঘটনাচক্রে ভাষার মাসে যখন ভালোবাসা দিবস আসে, তখন সব ভালোবাসাবাসির সবকিছু ছাপিয়ে মা আর মাতৃভাষাই হৃদয়ে জায়গা করে নেয় আরো বেশি। ভাষা যখন মা হয়ে ওঠে তখন তা মায়ের মতোই একান্ত আপনার ও ভালোবাসার। শৈশবে মায়ের কোলে বসে মায়ের মুখ থেকেই প্রথম বোল শেখা শিশুটির বেড়ে ওঠার পুরোটা জড়েই থাকে মা এবং মায়ের মুখের ভাষা।যুগ যুগ ধরে মায়ের মতোই প্রিয় বাংলা ভাষায় বাঁধা হয়েছে সুর, কণ্ঠ ভরে গাওয়া হয়েছে গান। ভালোবাসা থেকে দ্রোহ, সবকিছুই বাক্সময় মায়ের ভাষায়।শুধু নিজের ভাষা বলেই নয়, এ ভাষাকে কেন্দ্র করে…

ভাষার ইতিবাচক চর্চার ফাঁকে ভিনদেশি ভাষার আগ্রাসন

জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা এবং উচ্চতর শিক্ষা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশে যখন নানা ভাষার ইতিবাচক চর্চা হচ্ছে, তখন সংস্কৃতিতে ঘটে যাচ্ছে এক ধরনের আগ্রাসন।ভিনদেশি টিভি অনুষ্ঠান এবং সিরিয়াল থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। এর প্রভাব পড়ছে জীবন-আচারসহ নানা জায়গায়।অনেক বাড়ির দৃশ্যটা প্রায় একই রকম। অবিরাম চলে একটার পর একটা ভিনদেশি টিভি সিরিয়াল। বিদেশি সিরিয়ালের কথিত চাকচিক্য আর তথাকথিত নাটকীয়তার ঘোরে আচ্ছন্ন অনেক দর্শক।বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। বিদেশি ভাষায় কার্টুন আর সিরিয়াল দেখে কেউ কেউ অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে সেই ভাষা ও…

ভাষাশিক্ষা: জনশক্তি রপ্তানিতেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

বাংলার প্রতি সম্মান রেখে বৈচিত্র্যময় ভাষাশিক্ষা দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতেও বিভিন্ন ভাষার চর্চা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বর্তমান সময়ে দেশে বাংলার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের। অভিবাসন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রভাবক। বিভিন্ন দেশে গিয়ে কর্মস্থলে যোগাযোগ সহজ করতে তরুণরা স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখছেন।বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিকে মাথায় রেখে সরকারি ৬৪টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, টিটিসিতে সুযোগ আছে নানা…

নানা ভাষা শিখতে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অবদান

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ নানা প্রয়োজনে বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাষার চর্চা বাড়ছে। ইংরেজি ছাড়াও ফরাসি, জার্মান এবং অন্যান্য ভাষা শেখার জন্য তরুণরা ভিড় করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। ভিনদেশী ভাষার সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের পরিচয় অনেক আগের। পরিচয়টা আরো বেশি হয় সেন রাজত্বের অবসানে ত্রয়োদশ শতক থেকে ক্ষমতার পালাবদল শুরু হওয়ার পর। কিন্তু, বাংলাকে হটিয়ে দিতে পারেনি অন্য কোনো ভাষা। বরং শাসকদেরই শিখতে হয়েছে বাংলা।প্রয়োজনে বাঙালিও অন্য ভাষা শিখেছে। আধুনিক যুগে এসে প্রয়োজনের ব্যাপ্তি বাড়ায় বেড়েছে ভিন্ন ভাষা শেখার আগ্রহ। সেটা সহজ…

উচ্চশিক্ষার জন্য নানান ভাষায় আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের

যে দেশে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, সেই বাংলাদেশে অন্য ভাষার চর্চাও হয় গুরুত্বের সাথে। উচ্চশিক্ষা কিংবা পেশাগত প্রয়োজন অথবা অভিবাসন। প্রয়োজনই দেশের তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তুলেছে নানা ভাষার চর্চায়।‘কত অজানারে জানাইলে তুমি কত ঘরে দিলে ঠাঁই, দূরকে করিলে নিকট বন্ধু পরকে করিলে ভাই’ রবীন্দ্রনাথের লেখার মতোই বৈচিত্র্যময় ভাষা চর্চা অজানাকে চিরচেনা করে তুলছে তরুণ প্রজন্মের কাছে।বিভিন্ন ভাষা শেখার মাধ্যমে নানা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে যেমন জানা যায়, তেমনই মাতৃভাষার প্রতি…