জার্মানিতে মহাকাব্য রচনা করেছেন নিকো উইলিয়ামাস ও লামিন ইয়ামাল। তরুণ জুটির দুরন্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে একযুগ পর আবারও ইউরো শিরোপা জিতেছে স্পেন। সবশেষ ২০১২ সালে শিরোপা জিতেছিল দলটি। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে পরাজয় দেখল ইংল্যান্ড। ২০২০ আসরে ফাইনালে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ইংলিশদের কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি।
বার্লিনে গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষের পর দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা পায় দুদল। স্পেনিয়ার্ডদের হয়ে গোল করেন নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল ওয়েরজাবাল। ইংলিশদের একমাত্র গোলটি করেছেন কোল পালমার। ২-১ ব্যবধানে শিরোপা জিতে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে দলটি। প্রথম দেশ হিসেবে চতুর্থবার ইউরো শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়ল স্পেন। তিনবার জিতেছে জার্মানি।
শিরোপা জয়ের দিক থেকে স্পেন-জার্মানির পর দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইতালি ও ফ্রান্স। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, চেকোস্লোভাকিয়া এবং গ্রিস একবার করে শিরোপা জিতেছে। প্রতিযোগিতায় স্পেন একমাত্র দেশ যারা ২০০৮ এবং ২০১২ সালে টানা দুবার ইউরোর শিরোপা জিতেছে।
শিরোপামঞ্চে প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে বেশ দাপট দেখিয়েছে স্পেন। ১২ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় দলটি। নিকো উইলিয়ামসকে ঠেকিয়ে দেন জন স্টোনস। কর্নার পায় স্পেন। রবিন ডি নরমান্ড কর্নার কিকে আসা বলে শট নিলেও গোলবারের দেখা পেতে ব্যর্থ হন। ১৭ মিনিটে আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসকে প্রতিহত করেন মার্ক কুকুরেল্লা।
৩৫ মিনিটে দানি ওলমো গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। গোলরক্ষক পিকফোর্ড ঠেকিয়ে দেন ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শট। ৪৩ মিনিটে আলভারো মোরাতাকে প্রতিহত করেন পিকফোর্ড।
দুমিনিট পর সহজ গোলের সুযোগ মিস করেন হ্যারি কেন। উনাই সিমনকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি তার। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি বক্সের মধ্য থেকে নেয়া ফিল ফোডেনের শট ঠেকিয়ে স্পেনকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেন সিমন।
বিরতির পর নেমে লিড পায় স্পেন। ইয়ামালের পাসে ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান উইলিয়ামস। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। মিনিট দুয়েক পর দানি ওলমোর শট ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক। ৬৬ মিনিটে সহজ সুযোগ পেয়েও গোল আদায় করতে পারেননি ইয়ামাল।
৭৩ মিনিটে ইংলিশদের সমতায় ফেরান কোল পালমার। জুড বেলিংহামের পাস থেকে বল নিয়ে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন। লড়াই জমে ওঠে। দুদলই লিড নেয়ার চেষ্টায় মাতে। ৮৬ মিনিটে ওয়ারজাবালের দুরন্ত গোলে লিড আদায় করে নেয় স্পেন।
নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। পালমারের কর্নার থেকে আসা বলে ডেক্লান রাইসের দারুণ হেড ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। ফিরতি বলে হেড করেন মার্ক গুইজি। গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন দানি ওলমো। বেঁচে যায় স্পেন, যোগ হওয়া ৪ মিনিট সময় কাটিয়ে দিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে তারুণ্য নির্ভর দলটি।









