ছয় মাস আগে সাউথ কোরিয়ায় ঘোষিত সামরিক আইনের অভিঘাত এখনও পুরোপুরি কাটেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যেই আজ সকালে দেশের ১৪,২৯৫টি ভোটকেন্দ্রে শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন আগামী নেতাকে বেছে নিতে।
এক মাস আগেও সাতজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে নামলেও, শেষ পর্যন্ত পাঁচজন রয়েছেন মাঠে। জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন বিরোধী উদারপন্থী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির লি জে-মিয়ং। ২০২২ সালে মাত্র অল্প ব্যবধানে পরাজিত হওয়া লি এবার ‘ন্যায্য সমাজ’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী কিম মুন-সু নিজেকে একটি ব্যবসাবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরেছেন। তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছেন নিউ রিফর্ম পার্টির লি জুন-সিওক, যিনি নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তরুণদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়।
এছাড়াও রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টির সাবেক মানবাধিকার আইনজীবী কোয়ান ইয়ং-গুক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ব্যবসায়ী সং জিন-হো। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার প্রেসিডেন্ট পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই।
সামরিক আইন ঘোষণার পর থেকে সাউথ কোরিয়ার রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের হঠাৎ ঘোষণাটি স্বল্পস্থায়ী হলেও তার অভিঘাত এখনও রাজনীতিতে স্পষ্ট। জাতীয় পরিষদে আইনপ্রণেতাদের সংঘর্ষ, ইউনের অভিশংসন এড়ানো এবং রাষ্ট্রপতি প্রাসাদ ঘেরাও—এসব ঘটনা দেশটির গণতন্ত্রকে নাড়া দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরে। ১৪,২৯৫টি ভোটকেন্দ্রে ২৮,৫৯০ জন পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত “সর্বোচ্চ জরুরি প্রস্তুতি” বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।









