কালীপ্রসন্ন ঘোষের কালজয়ী পারিব না কবিতায় হতাশায় নিমজ্জিত কাউকে উজ্জীবিত করতে লেখা হয়েছিল, ‘একবার না পারিলে দেখো শতবার।’ সাউথ আফ্রিকাকে শতবার চেষ্টা করতে না হলেও কাটাতে হয়েছে সুদীর্ঘ ৩২ বছর। অবশেষে প্রথমবার হাতে পেয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাঁচবার সেমিতে খেলে সাউথ আফ্রিকা ফাইনালের দেখা পায়নি। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টির বিশ্বআসরে সেমিতে থামতে হয়। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দিল না মার্করামবাহিনী।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে শিরোপা জয় থেকে একধাপ দূরে এইডেন মার্করামের দল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বিজয়ী হলে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হবে সাউথ আফ্রিকা। ফাইনালে যাওয়ার পথে প্রোটিয়ারা গড়েছে একাধিক কীর্তি।
ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ব্রায়ান লারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। ১১.৫ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। প্রোটিয়ারা ৮.৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত ফাইনালের টিকিট কাটে। নিজেদের ইতিহাসে সর্বাধিক ৬৭ বল হাতে রেখে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে জয়ের দেখা পেল সাউথ আফ্রিকা। ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলটি ৫১ বল হাতে রেখে জিতেছিল।
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে এক পঞ্জিকাবর্ষে টানা আট জয়ের দেখা আগে কখনোই পায়নি সাউথ আফ্রিকা। ২০০৯ ও ২০২১ সালে তারা টানা সাত জয়ের মুখ দেখেছিল। বিশ্বকাপের হিসাব বিবেচনায় নিলে প্রোটিয়ারা অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ছুঁয়েছে। ২০২২ ও ২০২৪ বিশ্বকাপ মিলিয়ে অজিদের টানা জয়ের সংখ্যা আটটি। সাউথ আফ্রিকা এবারের আসরে টানা আটটিতে জিতেছে।
আফগানদের সঙ্গে উইকেটের ব্যবধানে বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকা দ্বিতীয় বিশাল জয় পেল। ২০১২ সালে হাম্বানটোটায় জিম্বাবুয়েকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল তারা।









