সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে প্রায় এক মাস জিম্মি থাকার পর মুক্ত হওয়াদের একজন এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিক তানভীর আহমেদ। মুক্ত হয়ে গ্রামের বাড়ি ফেনীতে ফিরেন তিনি।
জিম্মিদশার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানান তিনি।
তানভীর আহমেদ জানান, সোমালিয়ার জলদস্যুরা বর্বর ও জংলি টাইপের। ওরা একজনের পাত্রে আরেকজন খায়, দুই হাত দিয়ে মুটিমুটি করে খায় এবং খাবার চারদিকে ছিটিয়ে ফেলে। দেখা যায় একজন খেয়ে শেষ করে নাই নষ্ট করছে, ওখানের মধ্যে আরেকজন এসে খাওয়া শুরু করেছে। ওরা গোসল বা দাঁত ব্রাশ করত না, আমরা কখনো দেখি নাই। তারা ওয়াশরুম নোংরা করে রাখত এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙ্গে ফেলেছে, ব্যবহার জানতো না।
তিনি ভুলে থাকতে চান দুঃসহ স্মৃতি এবং কৃতজ্ঞতা জানান জাহাজ মালিক ও সরকারের প্রতি।
তানভীর আহমেদ আরও জানান, জলদস্যুদের কবলে পড়ার পর বাঁচার আশা ছেড়ে প্রায় দিয়েছিলাম। মা-বাবা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের আর কখনও দেখতে পাবো কি না সেই চিন্তা শুধু মাথায় আসত। শুরুর দিকে দস্যুদের হাতে জাহাজের অনেক কর্মকর্তাকে নাজেহাল হতে হয়েছে। পরে অবশ্য জলদস্যুরা খারাপ আচরণ করেনি। তবে তাদের কথা সবাইকে শুনতে হতো।
তানভীর দস্যুদের হাতে প্রায় এক মাস জিম্মি থাকা জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিকের একজন। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ফয়েজ ভূঁঞা বাড়ির মৃত জাফর আহমদ এর বড় ছেলে। এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত তিনি। তানভীর ২০১৭ সালে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে হংকং এর একটি জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন এবং সেখান থেকে কয়েক মাস পূর্বে কেএসআরএম কোম্পানিতে যুক্ত হন। এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে এটাই তার প্রথম সফর ছিল। এছাড়া তানভীর এর পরিবার দীর্ঘদিন যাবত চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। তারা দুই ভাই এক বোন এবং গত দুই বছর আগে পূর্বে তিনি বিয়ে করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে তানভীর আহমেদসহ জাহাজের অন্যান্য নাবিকরা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি-১) জেটিতে পৌঁছান। পরে তানভীর স্বজনদের সাথে দেখা করতে ছুটে আসেন ফেনীতে।
তানভীরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাকে দেখতে প্রতিবেশী-স্বজনেরা ভিড় করেছেন। তার কাছে জলদস্যুদের বিষয়ে নানা বিষয় জানতে চাচ্ছেন। এ সময় জিম্মি অবস্থার স্মৃতি তাদের তুলে ধরেন তানভীর আহমেদ।
তানভীরের মা জোসনা আক্তার জানান, গত দুই মাস কান্নাকাটি করে দিন কাটিয়েছেন। ছেলের জন্য উদ্বিগ্ন থাকায় খেয়ে না খেয়ে সময় পার হয়েছে তাদের। এখন ছেলেকে কাছে পেয়ে তার ঘরে ঈদের আনন্দ এবং কী যে ভালো লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এখন ছেলে ফিরে আসায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য সরকার ও জাহাজ মালিক পক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।








