গান দিয়ে সুসময়ে আছেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের মুকুট জয়ী শিল্পী কোনাল। বিশেষ করে প্লে-ব্যাকে এই শিল্পীর গান মানেই যেন হিট! শ্রোতাদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে! চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে যে তিনটি গান সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছে, প্রতিটি গানই কোনালের গাওয়া!
ঈদুল ফিতরে ঈদে মুক্তি পাওয়া শাকিব খান অভিনীত তপু খানের ছবি ‘লিডার আমিই বাংলাদেশ’-এ জাহিদ আকবরের লেখা ও নাভেদ পারভেজের সুর সংগীতে কোনালের ‘সুরমা সুরমা’ গানটি জনপ্রিয়তা পায়। যেখানে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দেন ইমরান মাহমুদুল।
ঈদুল আযহায় মাহফুজ-বুবলীর ‘প্রহেলিকা’ ছবিতে কোনালের ‘মেঘের নৌকা’ গানটি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এ গানে কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি সুর সংগীত করেন ইমরান, গানটি লেখেন আসিফ ইকবাল।
এ দুই গানের সাফল্যের মধ্যেই শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ ছবির ‘ও প্রিয়তমা’ গানটি প্রকাশের পর রীতিমত শোরগোল ফেলে। মাত্র একমাসে দুটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ছয় কোটির বেশী ভিউ হয়! প্রথম কোনো বাংলা ছবির গান হিসেবে জায়গা করে নেয় গ্লোবাল ১০০ টপ লিস্টের ৩৫-এ! মুক্তির একমাস পরেও গানটি আছে ট্রেন্ডিংয়ে!
কোনালের সঙ্গে ‘ও প্রিয়তমা’ গানে কণ্ঠ দেন বালাম। আকাশ সেনের সুর সংগীতে এই গানটিও লেখেন আসিফ ইকবাল।
সুরমা সুরমা, মেঘের নৌকা, ও প্রিয়তমা তিনটি গানই কোনালের প্রিয়। তিনি মনে করেন, এসব গানের মাধ্যমে তিনি মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পাচ্ছেন। গানগুলো যেমন হিট হয়েছে তেমনি এগুলো দিয়ে চমৎকার তিনটি ছবি দর্শক দেখতে পেয়েছেন। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটি শুভ লক্ষণ।
পরপর তিনটি হিট গান উপহার দেয়ায় চলচ্চিত্র ও গান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনাল এখন দেশের শীর্ষ প্লেব্যাক শিল্পী! চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে প্রসঙ্গটি টানতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত এই শিল্পী শ্রদ্ধায় নতজানু হয়ে বললেন, ‘এমন মন্তব্য শুনে আমার ভালো লাগে। সেরা কণ্ঠের মঞ্চ থেকে বেরিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করি এবং গত ১৪ বছরে অনেক কষ্ট করেছি, এখনও শিখে যাচ্ছি। প্রতিটি গানে আমি সর্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করি।’
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে কোনাল বলেন, এখনও প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তবে সেটা মানুষের মন জয় করার প্রতিযোগিতা। এক নাম্বার কিংবা শীর্ষ অবস্থানে আছি কিনা জানি না, তবে আমি বুঝতে পারছি যে মানুষ আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসা দিচ্ছে। আজীবন দর্শকদের হৃদয়ে সংগীতের ‘প্রিয়তমা’ হতে চেয়েছি এবং আমি অনুভব করছি মানুষের কাছ থেকে সেই ফিডব্যাক পাচ্ছি। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে সুখের অনুভূতি।
তিনি বলেন, গান করার সময় সবসময় মাথায় রাখি যেন সর্বাধিক দর্শকদের কাছে পৌঁছায়। তারপর দর্শক তাদের ভালো লাগা কিংবা মন্দ লাগা শেয়ার করুক। তবে এত কম সময়ে ‘ও প্রিয়তমা’ যেভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছেছে এতে আমিও আশ্চর্য হয়েছি। আর শাকিব খান যেখানে থাকেন সেখানে স্বল্প সময়ে এমন আগুন লাগা ব্যাপার থাকেই। ক্রিকেট মাঠ থেকে সিনেমার পর্দা, ঘরে বাইরে সবখানে এই গান বাজছে; এটাই বড় প্রাপ্তি। আমি মনে করি একজন শিল্পীর জীবনে এমন একটি গানই যথেষ্ট! যেখানে আমার পর পর গানগুলো দর্শক পছন্দ করছে, এই ভালোবাসা প্রকাশ করা সম্ভব?
মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহেও বাংলাদেশের ৪৫ সিনেমা হলসহ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, প্যারিসে চলছে ‘প্রিয়তমা’। এখনও ঢাকার সিনেপ্লেক্স মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে হাউজফুল দিচ্ছে ছবিটি। ইতোমধ্যে ২৭ কোটি টাকার গ্রস কালেকশন হয়েছে, যা বাংলা ছবির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ সেল!
শাকিবের এই ছবির এই সাফল্য উদযাপন করছেন তার ভক্তরা। বিষয়টি নজর এড়ায়নি কোনালের। তার কাছে মনে হচ্ছে, প্রিয়তমার এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত করতে পারতো গোটা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তিনি বলেন, আমি ব্রাজিলের ফ্যান, এরপরেও মেসি বিশ্বসেরা এটা তো কখনও অস্বীকার করতে পারবো না। শাকিব খান বাংলা ফিল্মের কাণ্ডারি। তার বিরোধিতা করা বা তার ভালো কাজগুলোকে সাপোর্ট না দেয়া নির্বোধের মতো কাজ।
কোনাল বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটি পরিবার হলেও কোথায় যেন আমরা নিজেদের সাফল্যকে উৎসাহ দিতে কাপর্ণ্য করছি। গত বছরও দেখেছি যেসব ছবি ভালো গেছে অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দর্শকদের সিনেমা হলে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু কেন যেন ‘প্রিয়তমা’র সাফল্যে এটি কম! তাই আমাদের উচিত ছিল দেশের পাশাপাশি বিদেশেও প্রিয়তমা ও শাকিব খান যেখানে আলোচনা তৈরি করেছেন তাকে আরও বেশী অনুপ্রাণিত করা।







