একসময় চীনের ধনী পরিবারগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর এখন সেই আকর্ষণ হারাচ্ছে। হংকং ও জাপানের মতো দেশগুলোতে চীনা পুঁজি ফিরতে শুরু করেছে।
২০১৯ সালে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন ও বেইজিংয়ের কঠোর দমননীতির পর সিঙ্গাপুরে ধনী চীনা পরিবারের আগ্রহ বাড়ে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, স্বাধীন আদালত ও মান্দারিন ভাষার প্রচলনও সিঙ্গাপুরকে আকর্ষণীয় করেছিল।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৩০০ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলার অর্থপাচার কেলেঙ্কারি বা ‘ফুজিয়ান কেস’-এর পর সিঙ্গাপুর ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়মকানুন কঠোর করে। নতুন করে গ্রাহক যাচাই, ফ্যামিলি অফিস পুনর্মূল্যায়ন ও কিছু হিসাব বন্ধ করা হয়।
ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতেও ২০২৫ সালে নতুন বিধান চালু হয়, যেখানে বিদেশি গ্রাহকদের সেবা দিতে উচ্চ মূলধন ও কঠোর মানদণ্ডে লাইসেন্স নিতে হচ্ছে। এতে চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তীব্রভাবে কমে গেছে।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে: মূল ভূখণ্ড চীনের ফ্যামিলি অফিস বা স্থায়ী আবাসনের আবেদন এখন ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক ধনী চীনা হংকং, দুবাই বা জাপানে চলে যাচ্ছেন। তরুণ ধনীরা সিঙ্গাপুরের শান্ত জীবনধারার চেয়ে হংকং ও দুবাইয়ের রাত্রিজীবনকে বেশি উপভোগ্য মনে করছেন।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে মাত্র ১,৬০০ মিলিয়নিয়ার যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৪ সালের অনুমানিত ৩,৫০০ জনের প্রায় অর্ধেক। হংকং করছাড় ও স্থায়ী বসবাসের শর্ত শিথিল করে নতুন বিনিয়োগকারীদের টানছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুর এখনও বৈধ সম্পদকে স্বাগত জানালেও কঠোর নিয়ম, বাড়তি তদারকি ও গোপনীয়তার সীমাবদ্ধতা ধনী চীনা পরিবারগুলোকে অন্য গন্তব্য খুঁজতে বাধ্য করছে।









