দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে আরও গতিশীল, সংগঠিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির বিভাগের সংখ্যা ৬টি থেকে বাড়িয়ে ৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী চলচ্চিত্রকে পৃথক বিভাগে রূপান্তর এবং আলোকচিত্র নামে নতুন বিভাগ চালু করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে নিউ মিডিয়া, কালচারাল ব্র্যান্ডিং, উৎসব ও প্রযোজনাকে বিভাগীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী শিল্পকলা একাডেমির পুনর্গঠিত বিভাগগুলো হল: ১.প্রশাসন ও অর্থ, ২. সংগীত, ৩.চারুকলা ৪. নাট্যকলা, ৫. চলচ্চিত্র, ৬. নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস, ৭. আলোকচিত্র, ৮. কালচারাল ব্র্যান্ডিং, উৎসব ও প্রযোজনা, ৯. গবেষণা, প্রকাশনা ও নিউ মিডিয়া। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্রকে আলাদা বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট শিল্পমাধ্যমগুলোর উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধ্যাদেশে শিল্পকলা একাডেমির নীতিনির্ধারণী ও পরিচালনা পরিষদ গঠনেও আনা হয়েছে মৌলিক পরিবর্তন। আগে যেখানে মাত্র ৩টি শাখার প্রতিনিধি থাকার বিধান ছিল, সেখানে এখন থেকে শিল্পকলার ৮টি বিশেষায়িত শাখা থেকে ৮ জন বিশিষ্ট প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভৌগোলিক ভারসাম্য নিশ্চিত করতে কোনো প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একের অধিক প্রতিনিধি মনোনীত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।
এছাড়া প্রথমবারের মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদককে পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে একাডেমির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।









