বিভিন্ন সংবাদ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুরের ধারার বিরুদ্ধে খালের জমি দখলের অভিযোগ বিষয়ে সুরের ধারা ও ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সুরের ধারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের কতিপয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সুরের ধারার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরস্থ রামচন্দ্রপুর মৌজায় .০৫১২০ একর জমি দখল বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। একই সঙ্গে এসব সংবাদ বা প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুরের ধারা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত, যেখানে সঙ্গীত, নৃত্য ও সৃজনকলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. রেজওয়ানা চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০০৯ সালে কোম্পানি আইনে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বরপ্রাপ্ত হয়, যা হলো: TO70৪ (১৯৯৪ সালে প্রণীত কোম্পানি আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত)।
২০০৯ সালে সুরের ধারা দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সংগীতের মধ্য দিয়ে জীবনমান উন্নয়নের জন্য ‘উন্নয়নের জন্য সংগীত’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করা।
২০১১ সালে সুরের ধারা গীতবিতানের আড়াই হাজার গান বাংলাদেশের সাড়ে ৪০০ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীর কণ্ঠে ধারণ করে শ্রুতিগীতবিতান নামে একটি অডিও সংকলন প্রকাশ করে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সাল থেকে সুরের ধারা প্রতিবছর সারা দেশের শিল্পীদের নিয়ে সহস্র কণ্ঠে বর্ষবরণ করে আসছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুরের ধারার এসব ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যাতে অব্যাহত থাকে, সেই উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের ৪ মে ঢাকা জেলার ডিসি কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নামে রামচন্দ্রপুর মৌজায় শুন্য দশমিক ৫১২০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে সংশোধন করে ওই জমিটি পুনরায় প্রতিষ্ঠানটির নামে বরাদ্দ প্রদান করা হয়, যার দলিল নম্বর হচ্ছে ৫৩২০, তারিখ ১২ জুন ২০২২। এরপর থেকেই সুরের ধারা এই জমি দখলপূর্বক সেখানে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পালন করে আসছে। উল্লেখ থাকে যে, সুরের ধারার পক্ষ থেকে অত্র তারিখ পর্যন্ত সকল খাজনা প্রদানপূর্বক সকল কাগজপত্র নিয়মিতকরণ করা হয়েছে।
সুরের ধারা কর্তৃপক্ষ এরপর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে সুরের ধারায় প্রবেশের নিমিত্তে একটি রাস্তার প্রয়োজনে শুন্য দশমিক ৩৫২৮ একর জমি বরাদ্দের আবেদন জানায়; যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে অনুমোদন প্রদান করা হয়। সুরের ধারা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে স্বাক্ষরকৃত একটি চুক্তির মাধ্যমে (তারিখ ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪) এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৮ দশমিক ৪৫ ডেসিমেল জমি সংযোগ সড়ক (আবাসিক) এবং ১৬ দশমিক ৮৩ ডেসিমেল জমি কৃষিকাজের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় কিছু শর্ত নির্ধারণপূর্বক।
এখানে উল্লেখের প্রয়োজন যে, জমিটি ভোগদখল ও ভবন নির্মাণের জন্য সুরের ধারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিম্নোক্ত অনুমোদন সংগ্রহ করেছে:
১. ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপত্র (স্মারক নং ৩১.০০.০০০০.০৪০.৪১.১৩৪.১৬.১৩৭, তাং ২৭ এপ্রিল ২০২২)।
২. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদনপত্র (স্মারক নং ৪৬.১০.০০০০.০২০.০০.১২৮৩ (১).২৩.০৮ তাং ৪ জানুয়ারি ২০২৪।
৩. রাজউক কর্তৃক লার্জ অ্যান্ড স্পেশাল প্রজেক্ট অনুমোদনপত্র (তারিখ: ১৬ মে ২০২৪)।
উপরোক্ত প্রমাণাদির সাপেক্ষে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, সুরের ধারার অনুকূলে রামচন্দ্রপুর মৌজায় বরাদ্দ শুন্য দশমিক ৫১২০ একর জমি সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সম্পন্ন হয়েছে এবং সুরের ধারা কর্তৃক সকল প্রকার আইন অনুসরণপূর্বক বরাদ্দকৃত জমি ভোগদখলকৃত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সুরের ধারা বরাদ্দকৃত জমিতে ভবন নির্মাণসহ সকল কার্যক্রম পালন করে চলেছে। নিয়মিত খাজনা প্রদানসহ জমিটি অস্থায়ী ভোগদখলের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার কোন প্রকার ব্যত্যয় সুরের ধারা কর্তৃক এযাবৎ হয়নি।
আর এ কারণেই সুরের ধারা ও তার চেয়ারম্যান ড. রেজওয়ানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে জমি দখলের যে সকল অভিযোগ প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদে করা হয়েছে, তা মিথ্যা এবং ভাবনাপ্রসূত।
প্রকাশিত সংবাদে ড. রেজওয়ানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য জমি দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা কেবল ভিত্তিহীনই নয়; বরং মিথ্যা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধও। যে জমির উল্লেখ করে ড. রেজওয়ানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তিনি বা তার প্রতিষ্ঠানের কারও নামেই বরাদ্দ হয়নি।
উল্লেখ্য, ড. রেজওয়ানা চৌধুরী শুধু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করতে হচ্ছে যে, বর্তমানে সুরের ধারার নামে বরাদ্দকৃত জমিটি বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক চালক সমিতি অবৈধভাবে জবরদখল করে রেখেছে।









