দেশ-বিদেশের সিনে সংশ্লিষ্ট গুণীজন এবং সাধারণ দর্শকের উপস্থিতিতে জমজমাট ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। দেশের সবচেয়ে বড় এই চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বাংলাদেশ প্যানারোমা’ ট্যালেন্ট সেকশনে প্রদর্শীতে হবে তাসনুভা রহমান জামিয়ার ছোট ছবি ‘নিষ্প্রাণ’।
নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘নিষ্প্রাণ’ ১৪ মিনিটের ছবি। উৎসবে চলচ্চিত্রটির দুটি প্রদর্শনী থাকছে। এর একটি সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৭টায় দেখা যাবে জাতীয় জাদু ঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে। অন্য প্রদর্শনীটি আগামি বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় দেখা যাবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের একদিনের ঘটনা নিয়ে ‘নিষ্প্রাণ’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন তরুণ এই নির্মাতা। চলচ্চিত্রটি নিয়ে জামিয়া জানান, “সিনেমাটি আমরা ৩০ জুলাই শুট করি। তখনো আমরা জানতাম না ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন হবে কিনা! স্বৈরাচার সরকারকে রূপক হিসেবে আমরা একটি পরিবারের স্বৈরাচারকে দেখিয়েছি ‘নিষ্প্রাণ’-এ।”
জামিয়া বলেন,“আমাদের অনেকের পরিবারেই এরকম এক স্বৈরাচার বসবাস করে যার ইচ্ছা, অনিচ্ছার উপর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ইচ্ছেগুলো নির্ভরশীল। বহু যুগ ধরে আমাদের দাদী,নানী,মা,খালারা নিজেদের ইচ্ছেগুলোর বলি দিয়ে আসছেন। এমনকি স্বামীর সাথে শারীরিক মিলনও স্বামীর ইচ্ছেতেই হয়ে থাকে। আমাদের মা খালারা তাদের কষ্টগুলো মুখ বুঝে সহ্য করে, স্বাভাবিক জীবন যাপন করে আসছে। কিন্তু আমাদের গল্পের প্রোটাগনিস্ট মায়া এই একবিংশ শতাব্দীর একজন শিক্ষিত নারী। মায়ার স্বামী কাশেদ যেন আমাদের স্বৈরাচার সরকারেরই এক প্রতিচ্ছবি। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ছাত্রদের আন্দোলনের স্লোগান শুনে সে খুব বিরক্ত হয়ে তিরস্কার করে- ‘সবগুলোকে গুলি করে মারা উচিত’। তার এই বক্তব্য কয়েক ঘণ্টা পরে তারই সন্তানের জীবনে কাল হয়ে নেমে আসে যেন।”
বিসিটিআই নিবেদিত জামিয়ার ‘নিষ্প্রাণ’ প্রযোজনা করেছেন মামুন সোবহানী। চিত্রগ্রহণে ছিলেন জন উইলিয়াম। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সুলতানা আকতার সোহাগী, গৌতম রায়, প্রোজ্জয়নী, সামিয়া, কাকালি প্রমুখ।









